নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার ৪ং ঘাঘড়া ইউনিয়নের সানকিডোয়ারী গ্ৰামে বিগত ২২/৪/২০
ইং তারিখে মোঃ মিয়া হোসেন খান এর পুত্র আবু বকর সিদ্দিক ওরফে নেকবর খাঁ (৪২) কর্তৃক আপন খালাতো ভাইকে কুপিয়ে জখম করার পর ফেরাতে গেলে নিজের মায়ের হাতের কব্জি কর্তন করার মতো গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল।
ভুক্তভোগী মীর্জা ইশতিয়াক আহমেদ বেগ ওরফে মুকুল (৩৫) ঘটনার দিন খালার বাড়ীতে বেড়াতে গেলে দুপুরে খাবার খাওয়ার সময় পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে
আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে নেকবর খাঁ তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসা আপন খালাতো ভাই মুকুল কে রান্না ঘরের দা দিয়ে উপর্যোপরি কোপাতে থাকলে আবুবক্কর সিদ্দিক ওরফে নেকবর খাঁর মা (ভুক্তভোগী মুকুলের খালা) ফেরাতে গেলে নিজের ছেলের দা’য়ের কোপে মায়ের হাতের কবজি কেটে মাটিতে পড়ে যায়।
ভুক্তভোগী মুকুলের ও তার খালার চিৎকারে আশপাশের লোকজন তাদের উদ্ধার করার পর মা ও খালাতো ভাইকে গুরুতর জখম করে আসামী নেকবর খাঁ পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
পরবর্তীতে এলাকার লোকজন নেকবর খাঁ কে পাশের জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় ধরে এনে পুলিশকে খবর দিয়ে আসামী নেকবর খাঁ কে স্থানীয় পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
অপরদিকে
দীর্ঘদিন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ভুক্তভোগী মুকুল ও তার খালা উম্মে কুলসুম (আসামির মা) কোন মতে সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরে আসলেও আসামীর মা হাত হারিয়ে ও ভুক্তভোগী মুকুলের মাথায় গভীর কুপে ৫২ টি সেলাই, ডান কাঁধের হাড় কাটাসহ,গলাতে বড় ধরনের কাটার দাগ, হাতের আঙুল কাটা, হাতের তালু কাটা, শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা দাগ নিয়ে ১৫২ টি সেলাই নিয়ে এক মানবেতর জীবনযাপন অতিবাহিত করতে থাকে।
সেই মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় আসামীর বাবা মোঃ মিয়া হোসেন খাঁ ভুক্তভোগী ইশতিয়াক আহমেদ মুকুলের নামে বিজ্ঞ আমলী আদালত পূর্বধলা বরাবর একটি চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন যে মামলার নং সি,আর,মোঃ,নং ৩২(১)২০২১ধারা ৩৪১/৩৮৫/৫০০/৫০৬
বিজ্ঞ আদালত উক্ত মামলা তদন্তে সত্যতা না পেয়ে আদালতে মামলাটি এক পর্যায়ে খারিজ করে দেন।
অপরদিকে ভুক্তভোগী মুকুলের মামলায় সমস্ত সাক্ষ্যগ্রহণ ও তদন্তে সত্যতা নিশ্চিত হয়ে গত ১৮/৮/২৬ইং আসামী নেকবর খাঁ কে ৫ বছরের জেল ও ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
আসামী নেকবর খাঁর সাজা হওয়ার পর দিকবেদিক জ্ঞান হারিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে চরিতার্থ করার জন্য বিগত ০৩/০৯/২৬ ইং বিজ্ঞ আমলী আদালত পূর্বধলা বরাবর আসামী নেকবর খাঁর পক্ষ থেকে তার ভাই ঈশা খাঁ (৪৪) আরোও একটি মিথ্যা মামলা রুজু করেন যে মামলার নং সি,আর ৪১০/১/২০২৬ ।
উক্ত মামলায় উল্লেখ করা হয় ভুক্তভোগী মীর্জা ইশতিয়াক আহমেদ মুকুল তার খালার হাত কেটেছে।
অথচ স্থানীয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানিয়েছে যে নেকবর খাঁর দায়ের কোপেই ভুক্তভোগী মীর্জা ইশতিয়াক আহমেদ মুকুল গুরুতর জখম হয় ও তার মা ফেরাতে গেলে মায়ের হাতের কব্জি কেটে পড়ে যায়।
ভুক্তভোগী মীর্জা ইশতিয়াক আহমেদ মুকুলের মামলায় তদন্তে সত্যতা নিশ্চিত হয়েই বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক উক্ত মামলায় আসামি নেকবর খাঁ কে ৫ বছরের জেল ও ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের জেল দিয়েছেন।
তাহলে উক্ত মামলা আদালতে ফয়সালা হওয়ার পরেও ধৃত আসামী নেকবর খাঁর বাবা মোঃ মিয়া হোসেন খাঁ ও তার অপর ছেলে ঈশা খাঁ কেন বারবার ভুক্তভোগী মীর্জা ইশতিয়াক আহমেদ মুকুল কে অহেতুক মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির শিকার করছে ও প্রান নাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বলে সাংবাদিকদের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সুদৃষ্টি কামনা করেন ভুক্তভোগী মীর্জা ইশতিয়াক আহমেদ মুকুল।
স্থানীয় সূত্রে একাধিক ব্যাক্তির সাক্ষ্য ও আসামী নেকবর খাঁর মা উম্মে কুলসুম যে ছেলের বিচার দাবি করে ভিডিও সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন তার প্রমাণ ও ভুক্তভোগী মীর্জা ইশতিয়াক আহমেদ মুকুলের কাছে ও সাংবাদিকদের নিকট সংগৃহীত আছে।
এমনকি আসামী নেকবর খাঁর কন্যার জবানবন্দিতেও উঠে এসেছে যে তার বাবা আসামী নেকবর খাঁর দায়ের কোপেই তার দাদীর হাত কাটা পরেছিল। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালত আসামী আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে নেকবর খাঁর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সত্যতা নিশ্চিত হয়েই আসামি আবুবক্কর সিদ্দিক ওরফে নেকবর খাঁকে বিচারের আওতায় এনেছিলেন।

পরিশেষে এলাকার প্রত্যক্ষ সাক্ষী, বিজ্ঞ আদালতের রায় এক প্রকার অমান্য করে মীমাংসিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি করে আসামী পক্ষ ভুক্তভোগী মীর্জা ইশতিয়াক আহমেদ মুকুলকে মিথ্যা সাজানো মামলায় বারবার হয়রানি করার উপযুক্ত শাস্তি হওয়ার প্রয়োজন বলে ভুক্তভোগী পরিবার ও এক শ্রেণীর বিজ্ঞ মহল দাবি করছেন।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *