মোঃ মানিক মিয়া
বিশেষ প্রতিনিধি

রংপুর মহানগরীর তাজহাট থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদকবিরোধী কার্যক্রম এবং অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন অভিযোগে মোট ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে জনসাধারণের সঙ্গে অশালীন ভাষায় কথা বলা ও মারমুখী আচরণের অভিযোগে একজন, চোলাই মদ সেবনের অভিযোগে চারজন, ইয়াবা সেবনের অভিযোগে দুজন, গাঁজা সেবনের অভিযোগে দুজন, সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরার অভিযোগে দুজন এবং টাকার বিনিময়ে তাস খেলে জুয়া খেলার অভিযোগে পাঁচজন রয়েছেন।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেপ্তার

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জনসাধারণের সঙ্গে ইচ্ছাকৃতভাবে অশালীন ভাষা ব্যবহার ও মারমুখী আচরণের অভিযোগে মোঃ সোহাগ মিয়া (২৪) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বাড়ি তাজহাট থানার মডার্ণ সর্দারপাড়া এলাকায়।

চোলাই মদ সেবনের অভিযোগে গ্রেপ্তার চারজন হলেন মোঃ মিন্টু মিয়া (২৯), মোঃ আবুল কালাম আজাদ (৪৫), মোঃ শাহিনুর (৫৫) ও মোঃ হুমায়ুন কবির (৩৬)। তাঁদের বাড়ি যথাক্রমে দক্ষিণ আশরতপুর, মধ্য বিনোদপুর ও আনসারী মোড় এলাকায়।

ইয়াবা সেবনের অভিযোগে মোছাঃ সুমাইয়া বেগম (২৯) ও মোছাঃ নুপুর বেগম (২৪) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের ঠিকানা রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানাধীন নুরপুর এলাকা।

গাঁজা সেবনের অভিযোগে গ্রেপ্তার দুজন হলেন মোঃ শফিকুল ইসলাম শফি (৫২) ও মোঃ মোক্তার হোসেন (৪০)। তাঁদের একজনের বাড়ি কোতোয়ালি থানার মুন্সিপাড়া এবং অপরজনের বাড়ি তাজহাট থানার লালবাগ এলাকায়।

এ ছাড়া সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরার অভিযোগে মোঃ শাহা পরান (১৯) ও মোঃ ইসমাইল ইসলাম (২০) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বাড়ি তাজহাট থানার ফতেপুর ভুরারঘাট এলাকায়।

অন্যদিকে, টাকার বিনিময়ে তাস ব্যবহার করে জুয়া খেলার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে পাঁচজনকে। তাঁরা হলেন মোঃ আব্দুর রশিদ (৪২), মোঃ ইলয়াস আলী (৪৫), মোঃ শহিদুল ইসলাম (৫৫), মোঃ সৌরভ মিয়া (৩৫) ও মোঃ রেজাউল করিম (৪৫)। তাঁদের ঠিকানা তাজহাট থানার কিসামত বিষু মানজাই, দর্শনা পাহাড়ী মানজাই, দর্শনা পাহাড়ী ডাঙ্গীরপাড় ও আক্কেলপুর এলাকায়।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের তৎপরতা

মাদক সেবন, জুয়া এবং জনসাধারণের সঙ্গে অসদাচরণের মতো অভিযোগে পুলিশের এ ধরনের অভিযান এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নিয়মিত তদারকি ও আইনানুগ পদক্ষেপের মাধ্যমে জননিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি অপরাধপ্রবণতা কমিয়ে আনার প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো আইনগত প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তিযোগ্য। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে গণ্য করা যায় না।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *