মোঃ শিহাব উদ্দিন
গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুষ, হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে কর্তৃপক্ষ। অফিসটির সহকারী পরিচালক (এডি) নাহিদ নেওয়াজ বলেছেন, সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ করেই সেবা দেওয়া হচ্ছে। কোনো আবেদনকারীর কাগজপত্রে ভুল বা তথ্যের অসঙ্গতি থাকলে তা সংশোধন ছাড়া পাসপোর্ট দেওয়ার সুযোগ নেই।
সম্প্রতি গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সেবা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চাইলে সহকারী পরিচালক নাহিদ নেওয়াজ এ অবস্থান তুলে ধরেন।
নাহিদ নেওয়াজ বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্যের সঙ্গে পাসপোর্ট আবেদনের তথ্যের মিল না থাকলে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হয়। তথ্যের অসঙ্গতি থাকলে সংশ্লিষ্ট আবেদনটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ফেরত যাওয়াকে হয়রানি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
একজন আবেদনকারী সিমলা রানী বিশ্বাসের পাসপোর্ট আবেদনের বিষয়ে তিনি বলেন, এনআইডি ডাটাবেজে তাঁর বৈবাহিক অবস্থা ‘গৃহিণী’ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু পাসপোর্ট আবেদনে তাঁকে ‘সিঙ্গেল’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে আবেদনে তথ্যের অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে নাহিদ নেওয়াজ বলেন, “ওনার এনআইডি ডাটাবেজে গৃহিণী রয়েছে। কিন্তু উনি সিঙ্গেল দিয়ে আবেদন করেন। তারপরও ওনাকে শুধুমাত্র এনআইডি কারেকশনের আবেদন জমা দিয়ে পাসপোর্ট দেওয়ার কথা বলেছি। আপনার যদি ওনাকে সত্যিই উপকার করতে মন চায়, তাহলে একটি অনলাইন এনআইডি সংশোধনের আবেদন করে আগামীকাল আমার অফিসে ওনাকে পাঠান। পাসপোর্ট পেয়ে যাবে।”
তিনি বলেন, পাসপোর্ট আবেদনে কোনো ধরনের তথ্যগত অসঙ্গতি থাকলে তা যাচাই করা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব। সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিশ্চিত করেই পাসপোর্ট দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ঘুষ আদায়ের অভিযোগও অস্বীকার করেন সহকারী পরিচালক। তাঁর বক্তব্য, তাঁর অজান্তে কেউ অনিয়ম বা অর্থ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তবে তাঁর কার্যালয়ে বড় ধরনের কোনো অনিয়ম হচ্ছে না।
এদিকে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আরিফ-উজ-জামান জানিয়েছেন, পাসপোর্ট অফিসের বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হবে।
অভিযোগ ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য—দুই পক্ষের দাবিই এখন তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়ার অপেক্ষায়। সরকারি সেবা নিতে আসা মানুষের হয়রানি বন্ধের পাশাপাশি নিয়ম মেনে দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সেবা নিশ্চিত করাই সংশ্লিষ্টদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *