মোঃ নাসির উদ্দিন
মোহনপুর (রাজশাহী)
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার অন্যতম বড় ও প্রাচীন অর্থনৈতিক কেন্দ্র কেশরহাট বাজার এবং এর পশুর (গরু) হাট। কোটি টাকারও বেশি মূল্যে ডাক বা ইজারা হওয়া সত্ত্বেও এই হাটগুলোর কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে স্থানীয় ব্যবসায়ী, সাধারণ ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মাঝে। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা এবং নজরদারির অভাবেই ঐতিহ্যবাহী এই বাজারটিতে নানা অব্যবস্থাপনা জেঁকে বসেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কোটি টাকার ইজারা, অথচ নাগরিক সুবিধার আকাল
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেশরহাট বাজারের গরুর হাটসহ বিভিন্ন বাজার এলাকা থেকে প্রতি বছর সরকার কোটি টাকার ও অধিক মূল্যে রাজস্ব পেয়ে থাকে বা ইজারা প্রদান করা হয়। অথচ এর বিপরীতে সেবার মান তলানিতে ঠেকেছে। হাটবারের দিনগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় থাকলেও সে অনুযায়ী বাজারের ভেতর পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত সুবিধা নেই। অতিরিক্ত ইজারা বা হাসিল আদায় করা হলেও সেই অনুপատ সেবা না পাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র
১. যানজট ও ড্রেনেজ সমস্যা: হাটবার ও নিয়মিত দিনগুলোতে কেশরহাট বাজারের মূল সড়কজুড়ে চলে কেনাবেচা। পর্যাপ্ত প্রশস্ততা এবং সুনির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় এবং যত্রতত্র ভ্যান-নছিমন পার্কিংয়ের কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে সাধারণ পথচারী ও দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এছাড়া বাজারের বর্তমান ড্রেনেজ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সামান্য বৃষ্টিতেই বাজারে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে নোংরা পরিবেশের রূপ নেয়।
২. নিরাপত্তা ও আলোর অভাব: কেশরহাট পশুর হাটে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বড় অংকের টাকা নিয়ে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা আসেন। কিন্তু হাটের ভেতর পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী নিরাপত্তার অভাবের কারণে সবসময় ছিনতাই ও চুরির আতঙ্ক বিরাজ করে।
৩. নির্ধারিত হাসিলের চেয়ে বেশি আদায়: সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ইজারাদারদের নিয়োজিত লোকজন পশুর হাট ও বাজারের বিভিন্ন পণ্যের ওপর নির্ধারিত হারের চেয়ে অতিরিক্ত হাসিল বা টোল আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবাদ করলে ক্রেতা-বিক্রেতারা হেনস্তার শিকার হন।
৪. শৌচাগার ও পানীয় জলের সংকট: বাজারে আগত হাজার হাজার মানুষ ও ব্যবসায়ীদের জন্য নেই কোনো পর্যাপ্ত মানসম্মত শৌচাগার বা বিশুদ্ধ পানীয় জলের সুব্যবস্থা। বিশেষ করে নারী ক্রেতা ও বিক্রেতাদের পড়তে হয় চরম বিপাকে।
ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সুর
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কোটি টাকার রাজকোষে অবদান রাখা সত্ত্বেও কেশরহাট বাজারের এই বেহাল দশা দেখার কেউ নেই। ইজারার নামে শুধু অর্থ আদায় হয়, কিন্তু বাজারের আধুনিকায়ন বা শৃঙ্খলার জন্য দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না।
এ বিষয়ে দ্রুত সংশ্লিষ্ট ইজারাদারদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং মোহনপুর উপজেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা। তারা অবিলম্বে কেশরহাট বাজার ও গরুর হাটে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে স্থায়ী ব্যবস্থাপনা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *