মোঃ মোরশেদ মিয়া
প্রতিনিধি (গাইবান্ধা )

বাদী নন্দলালের দায়েরকৃত এজাহার সূত্রে জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ আল আমিন (২৭) ভিকটিমের সিএনজিতে যাতায়াতের সময় নিজেকে একজন সেনাবাহিনীর সদস্য এবং বর্তমানে গাইবান্ধা র‌্যাব ক্যাম্পে কর্মরত আছে বলে জানায়। ভিকটিম সিএনজি চালক তা বিশ্বাস করে নিজের বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার করার জন্য ভুয়া র‌্যাব সদস্যকে অনুরোধ করে। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভিকটিম সিএনজি চালককে গাইবান্ধা বাসস্ট্যান্ডে আসতে বলেন। সেখানে প্রতারক আল আমিন ভিকটিমের জমি উদ্ধার করে দেওয়ার কথা বলে ১৪,০০০ টাকা নেয়। টাকা নেওয়ার পরেও ভিকটিমের কাজ না হওয়ায় তিনি প্রতারক আল আমিনের মোবাইলে ফোন দিলে নাম্বারটি বন্ধ পান। তখন ভিকটিম গাইবান্ধা র‌্যাব ক্যাম্পে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন যে, আল আমিন নামে কোনো র‌্যাব সদস্য সেখানে কর্মরত নেই। পরবর্তীতে ভিকটিম নন্দলাল বাদী হয়ে গত ০৭/০২/২০২৬ তারিখ গাইবান্ধা সদর থানায় পেনাল কোডের ১৭০/৪০৬/৪২০ ধারায় একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- ১১ ।

এরই প্রেক্ষিতে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-১৩, সিপিসি-৩, গাইবান্ধা ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল ইং ০৭/০২/২০২৬ তারিখ রাত ০১.৪৫ ঘটিকায় তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে গাইবান্ধা জেলার সদর থানাধীন দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সেনা ও র‌্যাব সদস্য পরিচয়ে প্রতারণা মামলার প্রধান আসামি মোঃ আল আমিন (২৭), পিতা-মোঃ আশরাফুল ইসলাম, সাং-নারিকেলবাড়ী, পোস্ট-নারিকেলবাড়ী, ০৪নং ওয়ার্ড, উলিপুর পৌরসভা, থানা-উলিপুর, জেলা-কুড়িগ্রাম’কে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

প্রাথমিকভাবে জানা যায় যে, আসামি মোঃ আল আমিন বিভিন্ন সময়ে নিজেকে সেনা ও র‌্যাবের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রতারনার মাধ্যমে অনেকের কাছে থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছে। সে তার মোবাইলে নিজের ব্যবহৃত বিভিন্ন সিমকার্ডের নম্বরকে কর্নেল, লেঃ কর্নেল, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইত্যাদি নাম দিয়ে সংরক্ষণ করে রেখে ভিকটিমদের বিশ্বাস অর্জন করতো এবং কাজ হয়ে যাবে বলে মিথ্যা আশ্বাস দিতো। সে তার নিকট অবৈধভাবে রক্ষিত বিভিন্ন বাহিনীর ব্যবহৃত নানা সরঞ্জাম দেখিয়ে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতো। সে সাধারণ মানুষকে তাদের নানাবিধ সমস্যা সমাধানের কথা বলে টাকা আদায় করতো এবং পরবর্তীতে তাদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিতো।

ধৃত আসামি মোঃ আল আমিন এর হেফাজত হতে নিম্ন বর্ণিত আলামত সমূহ উদ্ধার করা হয়েছেঃ

• সেনাবাহিনীর বুট- এক জোড়া ।
• বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যাগ-০১ টি
• হ্যান্ডকাফ-এক জোড়া
• বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আইডি কার্ড- ০১ টি।
• অফিসিয়াল সিল-০১ টি।
• বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মোবাইল পাস-০১ টি
• বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেমপ্লেট-০১ টি।
• বাংলাদেশ সেনাবাহিনী লেখা স্টিকার-০২ টি।
• বিভিন্ন চাকুরি সংক্রান্ত ভুয়া নথিপত্র।
• একাধিক সীমকার্ড সহ মোবাইল ফোন-০১ টি।

গাইবান্ধা জেলা র‌্যাবের কমান্ডার সিনিয়র এএসপি তরিকুল ইসলাম জানান
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও এই ধরনের চক্রের বিরুদ্ধে র‌্যাব ১৩ এর গোয়েন্দা তৎপরতা এবং চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *