মোঃ শিহাব উদ্দিন
গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। দুই লাখ টাকা যৌতুক না দেওয়ায় স্বামীর হাতে মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নারী নাজমা বেগম (৪০)।

ভুক্তভোগী নাজমা বেগম জানান, তার পিতা মৃত সুলতান শেখ। তিনি মান্দারতলা গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী শাহিন শেখ (পিতা: নবা শেখ), বাড়ি গোপালগঞ্জ শহরের বেদগ্রাম হরিঙ্গা এলাকায়।

নাজমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী শাহিন শেখ দুই লাখ টাকা যৌতুকের জন্য লাগাতার চাপ দিয়ে আসছেন। যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয় এবং একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে স্বামী তাকে উদ্দেশ করে বলেন,

“দুই লাখ টাকা না দিলে তোকে আরও মারধর করবো। তুই এমনিতেই আমার সংসার ছেড়ে চলে যাবি।”

ভুক্তভোগীর দাবি, নির্যাতনের মাত্রা দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় তিনি জীবন রক্ষার তাগিদে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বর্তমানে গোপালগঞ্জ শহরের নবীনবাগ এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে থেকেও তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।

নাজমা বেগম আরও বলেন, তার দুই বছর বয়সী একটি শিশু সন্তান রয়েছে—আলামিন শেখ। শিশুসন্তানকে নিয়ে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগে রয়েছেন।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে অভিযুক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগী নারী ও তার শিশুসন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

যৌতুকের মতো ঘৃণ্য সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে এমন নির্যাতন বন্ধ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন মহল।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *