ইউসুফ আব্দুল্লাহ
বিশেষ প্রতিনিধি

বর্ণাঢ্য মিছিল, আলোচনা সভা ও নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করেছে মহানগর বিএনপি।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে নগরীর নতুন বাজার এলাকায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে জড়ো হতে থাকেন মহানগরের ১ থেকে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে খণ্ড খণ্ড মিছিলসহ নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও কর্মসূচিতে অংশ নেন।

পরে সেখানে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের প্রবীণ রাজনীতিবিদ অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলীসহ মহানগর ও জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

আলোচনা সভায় বক্তারা ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ ও এর রাজনৈতিক তাৎপর্য তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, ওই দিন সেনাবাহিনীর সাধারণ সৈনিক ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণে একটি ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। ওই ঘটনাপ্রবাহে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

বক্তারা আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে নতুন ধারার সূচনা করেন। তিনি সেনাবাহিনীর সদস্য ও সাধারণ মানুষের সমর্থন পেয়েছিলেন। তৎকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে তিনি বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। এ সময় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠের বিষয়টিও স্মরণ করেন বক্তারা।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ১৯৭৫ সালের সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জিয়াউর রহমান দায়িত্ব গ্রহণ না করলে দেশে গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারত। তাই নতুন প্রজন্মের কাছে ৭ নভেম্বরের ইতিহাস, ঘটনাপ্রবাহ ও তাৎপর্য তুলে ধরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বক্তারা আরও বলেন, ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে অবহিত করতে হবে। এর মাধ্যমে তারা দিবসটির গুরুত্ব এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে জানতে পারবে।

আলোচনা সভা শেষে দুপুর ১টার দিকে জেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য মিছিলের উদ্বোধন করেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী। মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্টেশন রোডের কৃষ্ণচূড়া চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এতে মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *