দীর্ঘ ১৪ বছর পর শেরপুর জেলার নকলা থানার চাঞ্চল্যকর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার দায়ে দ্বিতীয় স্ত্রী উক্ত হত্যাকান্ডে সহায়তা করায় হত্যা মামলার মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত পলাতক আসামী আন্জুমানারা বেগম’কে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৪, সিপিসি-১, জামালপুর ক্যাম্প।
এজাহার ও বিজ্ঞ আদালতের রায় পর্যালোচনা জানা যায়, আসামী মৃত নূরুল আমিন বৈঠা তার অন্তঃসত্ত্বা প্রথম স্ত্রীকে রেখে দ্বিতীয় বিবাহ করায় তাদের মধ্যে কলহ সৃষ্টি হয়। ধৃত আসামী আন্জুমানারা বেগম (শেফালী) মৃত নূরুল আমিন বৈঠা এর দ্বিতীয় স্ত্রী হওয়ায় তার সাথে প্রথম স্ত্রীর প্রায়শই ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো। ধৃত আসামী তার স্বামীকে প্রথম স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করার জন্য বিভিন্নভাবে প্ররোচনা দিয়ে আসতে থাকে। এহেনবস্থায়, মৃত নূরুল আমিন বৈঠা প্রথম স্ত্রীর সাথে বাকবিতন্ডা করতে থাকেন। একপর্যায়ে, মৃত নূরুল আমিন বৈঠা তার অন্তঃসত্ত্বা প্রথম স্ত্রীকে স্বজোরে পেঠে লাথি মারার দরুন ভিকটিম মাটিতে লুঠিয়ে পড়ে ঘটনাস্থলে মৃত্যু বরণ করেন। পরবর্তীতে, ভিকটিমের ভাই মোঃ আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে শেরপুর জেলার নকলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-৪, তারিখ-০৫-০৪-২০০৫ খ্রি.। পরবর্তীতে, বিজ্ঞ আদালত বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বাদীর আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানীত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত আসামী আন্জুমানারা বেগম (শেফালী)কে বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল শেরপুর গত ১৯-০৪-২০১০ ইং তারিখে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ সালের ১১(ক)/৩০ ধারায় দোষী সাব্যস্থ করে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করেন।
৩। এরই ধারাবাহিকতায়, র্যাব-১৪, সিপিসি-১ জামালপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর আবরার ফয়সাল সাদী এর নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামির অবস্থান সনাক্তের মাধ্যমে ১৩ মার্চ,২০২৪ খ্রি. তারিখ রাত অনুমান ১৯.১০ ঘটিকার সময় ময়মনসিংহ জেলার সদর থানাধীন চরশসা জয় বাংলা বাজার এলাকা হতে হত্যা মামলার মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত পলাতক আসামী আন্জুমানারা বেগম (শেফালী) (৪৬), স্বামী – মৃত নুরুল আমিম বৈঠা, সাং- বাছুর আলগা, থানা- নকলা, জেলা- শেরপুর’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
ধৃত আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার নিমিত্তে শেরপুর জেলার নকলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
