স্টাফ রিপোর্টার
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার চরবানী পাকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ গত প্রায় ১৬ বছর ধরে বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন সময়ে যথাযথ অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেছেন। এ সময় তিনি রাজনৈতিক ও বিভিন্ন ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দ ও সরকারি সুবিধা বাস্তবায়নে অনিয়ম এবং আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়ের নামে বরাদ্দ পাওয়া বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় করা হয়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষক নিয়োগ, বদলি ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব খাটিয়ে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত শিক্ষক পদ সৃষ্টির ক্ষেত্রে অনিয়মের মাধ্যমে সুবিধা গ্রহণের বিষয়টিও তদন্তের দাবি রাখে বলে অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেছেন।
এদিকে ২০১৯ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার দায়িত্ব পালনকালেও তার বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। এছাড়া বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কারণে প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়ার ঘটনাও রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রধান শিক্ষকের আচরণ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা অভিযোগ করেন, ছুটি গ্রহণসহ বিভিন্ন বিষয়ে অযৌক্তিক চাপ ও আর্থিক লেনদেনের সংস্কৃতি চালু রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়েও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক আইডি ব্যবহার করে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে অথবা অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় তদন্তসাপেক্ষে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
