গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে আদিবাসী পল্লিতে হামলা, অগ্নিসংযোগ, গুলি বর্ষণ ও তিন সাঁওতাল হত্যার দশমবার্ষিকীসহ ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে সাঁওতাল হত্যা দিবস পালিত হয়েছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ এলাকায় নিহতদের স্মরণে অস্থায়ী বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মোমবাতি প্রজ্বলন ও এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়।

পরে সাঁওতালদের ঐতিহ্য তীর-ধনুক, কালো পতাকা, ব্যানার, বিভিন্ন দাবি দাওয়া সংবলিত ফেস্টুন নিয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে ঢাকা-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম।

সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার কমিটির সভাপতি সুফল হেমব্রমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শেখ নাছির উদ্দিন, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিক রেজা, পলাশবাড়ি উপজেলা আহবায়ক শহিদুল ইসলাম, উপজেলা সিপিবি’র সভাপতি অশোক আগরওয়ালা, জেলা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি কামরুল হাসান বসনিয়া, সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার কমিটির সহ-সভাপতি বার্নাবাস টুডু, সাধারণ সম্পাদক জাফরুল ইসলাম, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান সাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক স্বপন শেখ প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর চিনিকল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা সাঁওতালদেরকে উচ্ছেদ করতে গেলে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের দফায় দফায় সংঘর্ষে ৩০ জন সাঁওতাল আহত হন। তাদের মধ্যে তিন সাঁওতাল মঙ্গল মার্ডি, রমেশ টুডু ও শ্যামল হেমব্রম মারা যান। এসব ঘটনায় মামলার কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় সাঁওতালরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *