নিজস্ব প্রতিবেদক
হিজলা (বরিশাল)

বরিশালের হিজলা উপজেলায় জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সালিসি সিদ্ধান্ত অমান্য করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের পশ্চিম কোড়ালিয়া গ্রামে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

​খবর পেয়ে হিজলা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

​আহতদের পরিচয়:

সংঘর্ষে উভয় পক্ষের চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তারা হলেন— বিল্লাল হোসেন খোকন (২৫), জয়নাল দেওয়ান (৫০), খলিল দেওয়ান (৪৫) এবং বিপুলি বেগম।

​ঘটনার পটভূমি ও সালিসি বৈঠক:

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পশ্চিম কোড়ালিয়া গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে একটি জমির দখল ও মালিকানা নিয়ে জব্বার আকন ও জয়নাল দেওয়ান পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য সাবেক ইউপি সদস্য হানিফ দেওয়ান ও রিপন খানের উপস্থিতিতে একটি সালিসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জয়নাল দেওয়ান পক্ষের দেওয়া বেড়া সরিয়ে নেওয়া হবে এবং পরবর্তীতে কাগজপত্র পর্যালোচনা করে জমির মাপঝোপ ও সীমানা নির্ধারণ করে বেড়া নির্মাণ করা হবে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, এই সালিসি সিদ্ধান্ত অমান্য করেই উভয় পক্ষ পুনরায় বিরোধে জড়িয়ে পড়ে।

​উভয় পক্ষের বক্তব্য:

​ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি: জব্বার আকন অভিযোগ করে জানান, প্রতিপক্ষের লোকজন জোরপূর্বক বিরোধপূর্ণ জমিতে বেড়া নির্মাণ করে। পরবর্তীতে পুলিশের হস্তক্ষেপে সালিসদাররা শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে সেই বেড়া খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং কাগজপত্র পর্যালোচনার মাধ্যমে পরবর্তীতে সীমানা নির্ধারণের কথা বলেন। ঘটনার দিন জয়নাল দেওয়ানকে বেড়া সরিয়ে নেওয়ার কথা বললে তিনি তেড়ে আসেন এবং তার ছেলে বিল্লাল হোসেন বাধা দিলে তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়।

​পাল্টা দাবি: অন্যদিকে, অভিযুক্ত জয়নাল দেওয়ান দাবি করেন যে তারা নিজেদের জমিতেই বেড়া নির্মাণ করেছিলেন। উল্টো জব্বার আকন ও তার লোকজন তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

​প্রশাসনের বক্তব্য:

এ বিষয়ে সাবেক ইউপি সদস্য হানিফ দেওয়ান ও রিপন খান সালিসে নেওয়া সিদ্ধান্তের সত্যতা নিশ্চিত করে আজকের এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

​ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ বিষয়ে হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান জানান, “সংঘর্ষের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আহতরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অভিযোগ প্রাপ্ত সাপেক্ষে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *