মোঃ ইমরুল আহসান
গত ২৫ আগষ্ট সকাল অনুমান ০৮.০৫ ঘটিকার সময় মোবাইল ফোনে সংবাদ পান যে, সেতু এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড অটো রাইস মিলের ভিতরে একজন শ্রমিকের মৃত দেহ পড়ে আছে।
উক্ত সংবাদের প্রেক্ষিতে নালিতাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মোঃ এমদাদুল হক ও জরুরী ডিউটিতে নিয়োজিত এসআই/শেখ গোলাম মোস্তফা রুবেল এবং সঙ্গীয় ফোর্স সহ নালিতাবাড়ী থানাধীন দক্ষিন রানীগাঁও সাকিনস্থ সেতু এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এর দক্ষিণে সম্প্রসারিত নির্মানাধীন সাইলোতে যাইয়া দেখেন একটি মৃত দেহ পড়িয়া আছে।
জিজ্ঞসাবাদের একপর্যায়ে জানিতে পারেন উক্ত মৃত দেহটি লিটন মুরুমু (২৫), পিতা- মৃত কান্দেলা মুরুমু, মাতা- শান্তি হেমরন, সাং- বিক্রমপুর, পোঃ- রামপুর, থানা- কাহারোল, জেলা- দিনাজপুর। কে বা কাহারা তাহার মাথার পিছনের অংশে আঘাত করিয়া গুরুত্বর রক্তাক্ত জখম করে। উক্ত আঘাতের ফলে তাহার মাথার মগজ বাহির হইয়া যায় এবং সে ঘটনাস্থলে মৃত্যু বরন করেন। পরে এসআই/ শেখ গোলাম মোস্তফা রুবেল
ঘটনাস্থলে মৃত দেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করিয়া মৃত্যু সঠিক কারন নির্ণয়ের জন্য লাশ শেরপুর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করেন।
পরবর্তীতে মৃত লিটন মুরুমু (২৫) এর বাড়ীর লোকজন সংবাদ পাইয়া নালিতাবাড়ী আসিয়া বিস্তারিত ঘটনা শুনিয়া তাহার বড় ভাই বাবলু মুরুমু (৩০), পিতা- মৃত কান্দেলা মুরুমু, মাতা- শান্তি হেমরন, সাং- বিক্রমপুর, পোঃ- রামপুর, থানা- কাহারোল, জেলা- দিনাজপুর বাদী হইয়া থানায় এজাহার দায়ের করিলে নালিতাবাড়ী থানার মামলা নং-৩৩, তারিখ-২৬/০৯/২০২৩ খ্রিঃ, ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড রুজু করা হয়।
অত্র মামলাটি রুজু হওয়ার পর তদন্ত ভার নালিতাবাড়ী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ আব্দুল লতিফ মিয়া এর উপর হাওলা করা হয় এবং মামলার দ্রুত সময়ে রহস্য উদঘাটন ও আসামিদের সনাক্তকরণ -সহ গ্রেফতারের জন্য শেরপুর জেলার পুলিশ সুপার মোনালিসা বেগম, পিপিএম মহোদয়ের সার্বক্ষনিক তদারকী ও দিক নির্দেশনায় নালিতাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ এমদাদুল হক এর নেতৃত্বে নালিতাবাড়ী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল লতিফ মিয়া ও সঙ্গীয় অফিসার ফোর্স সহ অভিযান পরিচালনা করে তদন্তে সন্ধিগ্ধ আসামী মোঃ রাকিব ইসলাম (১৯), পিতা- মোঃ মোজাফ্ফর আলী, সাং- কাশিডাঙ্গা, থানা- বিরল, জেলা- দিনাজপুরকে গ্রেফতার করা হয়।
তাকে থানায় নিয়া এসে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মোঃ রাকিব ইসলাম (১৯) স্বীকার করে যে, ঘটনার দিন গত ২৪/০৮/২০২৩ খ্রি. তারিখ দিবাগত রাতে ধৃত আসামী সহিত ডিসিষ্ট লিটন মুরুমু (২৫) এর গাঁজা সেবনকে কেন্দ্র করিয়া কথা কাটাকাটি হয়।
ডিসিষ্ট লিটন মুরুমু (২৫) সন্ধিগ্ধ আসামী মোঃ রাকিব ইসলাম এর পিতা মাতাকে জড়াইয়া অশ্লীল গালিগালাজ করিলে একপর্যায়ে সন্ধিগ্ধ আসামী মোঃ রাকিব ইসলাম ক্ষিপ্ত হইয়া ঘটনাস্থলের পাশে থাকা লোহার এঙ্গেল দিয়া ডিসিষ্ট এর মাথার পিছনের অংশে স্বজোড়ে আঘাত করিয়া হত্যা করে এবং ডিসিষ্ট এর নিকট থাকা মানিব্যাগ হইতে ৩,৭০০/- টাকা বাহির করিয়া নিয়া মানিব্যাগটি ও হত্যার কাজে ব্যবহৃত লোহার এঙ্গেলটি ঘটনাস্থলের পার্শ্বে ডোবার পানিতে ফেলে দেয়।
পরবর্তীতে সন্ধিগ্ধ আসামী মোঃ রাকিব ইসলাম এর দেখানো মতে তাহার ব্যাগের ভিতর হইতে ডিসিষ্ট এর ৩,৭০০/- টাকা এবং ঘটনাস্থলের পার্শ্বে ডোবা হইতে হত্যার কাজে ব্যবহৃত লোহার এঙ্গেল ও মানিব্যাগটি উদ্ধার করা হয় নালিতাবাড়ী থানা পুলিশ।
পুলিশ সুপারের কার্যালয়, শেরপুর-এর সম্মেলন কক্ষে
মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৩ টায় আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং এ ক্লুলেস লিটন মুরুমু হত্যার রহস্য উদঘাটন ও আসামী গ্রেফতার সংক্রান্তে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান শেরপুর জেলার পুলিশ সুপার মোনালিসা বেগম পিপিএম-সেবা।
