মোঃ ইমরুল আহসান

আলম লিমন (৪০) নামের একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

লিমন শাজাহানপুর উপজেলার দুবলাগাড়ি হাটের মণ্ডল মার্কেটে জাফনুল ফটোকপি এন্ড কম্পিউটার নামক একটি দোকান পরিচালনা করতেন। তিনি কম্পিউটারে এডিট করে জাল নামজারি খতিয়ান, জাল ডিসিআর সৃজনপূর্বক প্রতারণামূলকভাবে ভূমি জালিয়াতির কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।

ভুক্তভোগী মোঃ আব্দুল বাছেদ জানান, ” লিমন নামজারি করে দেওয়ার জন্য তার নিকট হতে ৯,০০০/- টাকা নেন এবং তাকে জাল নামজারি খতিয়ান ও জাল ডিসিআর প্রদান করেন”। লিমন এর ভূমি জালিয়াতির ঘটনা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে আরেকজন ভুক্তভোগী শারমিন আক্তার জানান, ”লিমন তার কাছ থেকে নামজারি করে দিবে বলে ২১,০০০/- টাকা নিয়েছেন”।

এটি যেভাবে জাল নামজারি খতিয়ান ও জাল ডিসিআর হিসেবে চিহ্নিত হলো

এই নামজারি খতিয়ানের নামজারি মামলা নম্বর: ১৩৯২/২৩-২৪ রয়েছে কিন্তু ডিসিআরে নামজারি মামলা নম্বর: ৫২২৭/২৩-২৪। নামজারি খতিয়ান ও ডিসিআর-এ নামজারি মামলা নম্বর একই হওয়ার কথা ছিল।

ই-মিউটেশন সিস্টেমে ১৩৯২/২৩-২৪ নম্বর মামলা সার্চ দিয়ে দেখা যায়, এখন পর্যন্ত উক্ত জমির তফসিলে মোঃ আব্দুল বাছেদের নামে কোন নামজারি অনুমোদন হয়নি। আর ৫২২৭/২৩-২৪ নামজারি মামলা সার্চ দিয়ে দেখা যায়, এই অর্থবছরে এখন পর্যন্ত উপজেলা ভূমি অফিস শাজাহানপুরে নামজারি মামলা ৩৮০০ ক্রস করেনি।

নামজারি খতিয়ানে উম্মে সালমা, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, খোট্টাপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। যিনি বর্তমানে উক্ত ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত নেই। খোট্টাপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বর্তমানে মোঃ ওসমান গনি নামের একজন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কর্মরত রয়েছেন।

নামজারি খতিয়ানে উপজেলা ভূমি অফিসের বর্তমান কানুনগো জনাব মোঃ আব্দুল করিমের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।

নামজারি খতিয়ানে বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম এর নাম ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে পূর্ববর্তী সহকারী কমিশনার (ভূমি) শানজিদা মুস্তারীর।

লিমন ফটোকপি এন্ড কম্পিউটার এর মালিক মোঃ জাকিউল আলম লিমন তার কৃত অপরাধ উপস্থিত সকলের সামনে বিনা প্ররোচনায় স্বীকার করেন। তার এই অপরাধ “ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩” এর সংশ্লিষ্ট ধারায় বিচার্য।

বর্ণিত ব্যক্তির নিকট হতে একটি মনিটর, একটি সিপিইউ, একটি ফটোকপিয়ার মেশিন এবং একটি মোবাইল ফোন রাষ্ট্রের অনুকূলে জব্দ করা হয়েছে। যা বর্তমানে থানা পুলিশের জিম্মায় রয়েছে।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *