স্টাফ রিপোর্টার
জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার জালালপুর গ্রামে এক সাংবাদিক নামধারী বিএনপি নেতার ছত্রছায়ায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের ক্রয় ও পৈত্রিক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, কথিত ওই সাংবাদিক নামধারী বিএনপির দাপুটে নেতার নাম আজম খান। ৫ আগস্টের পর তার সম্পদ ও ক্ষমতা এতোটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে,সে এখন সাধারণের নাগালের বাইরে চলে গেছে। শুধু তাই নয় তার রাক্ষুসে থাবা থেকে সাধারণ জনগণের জানমাল এখন আর কিছুই নিরাপদ নয়। তার হয়ে মাঠে লুটপাটের কাজ করছে একটি শক্তিশালী আওয়ামী সন্ত্রাসী ইউনিট। অথচ দেখার নেই কেউ। নয়ানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিজেকে দাবী করা এই বিশাল ক্ষমতাধর নেতার কারণে ইউনিয়নবাসী জিম্মি হয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি জালালপুর গ্রামে প্রকাশ্য দিবালোকে তার নেতৃত্বে সংগঠিত হয়েছে জমি বেদখলের মব। তার পেটোয়া আওয়ামী সন্ত্রাসীরা চালিয়ে যাচ্ছে রামরাজত্ব।
জমি জবরদখলের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযোগকারী দাবি করেছেন, একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে ওই সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা করে আসছিলেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, মেলান্দহ উপজেলার জালালপুর গ্রামের মৃত প্রকৌশলী নূরুল ইসলামের ছেলে মো. আমিনুল ইসলাম নিকেল (৫৬) বাদী হয়ে মেলান্দহ থানায় মামলা দায়ের করেন।
বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, জামালপুর জেলার মেলান্দহ থানাধীন জালালপুর মৌজায় অবস্থিত তাদের পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত বিভিন্ন সম্পত্তি তারা দীর্ঘ প্রায় ৬০ থেকে ৬২ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন।
মামলায় উল্লেখিত সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে বিএস খতিয়ান নং ৩২০, ৩২১, ৩২২ ও ৩২৩-এর অন্তর্ভুক্ত বিআরএস দাগ নং ৭৬১, ৭৭৪, ৭৭৬, ৭৬৯, ৭৭০, ৭৬৬, ৯০৬, ৯০৭, ৯০৮, ৯০৯ ও ৯১০। এছাড়াও আরওআর খতিয়ান নং ৩৬৩, ২৫৬, ৮৭ ও ৮৪-এর অন্তর্ভুক্ত আরওআর দাগ নং ৮৯, ৯৩, ৯৪, ১০১ ও ১১৪-এর জমির কথাও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, একই গ্রামের মৃত আব্দুল গণি খাঁর ছেলে মো. মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু (৪৮), মো. ছামিউল আলম (৪৫), মো. সাজ্জাদ (২৮), মঞ্জুরুল ইসলামের ছেলে মো. হৃদয় (২৫), মৃত আব্দুস কুদ্দুস খাঁর ছেলে মো. রঞ্জু খাঁ (৩০), মৃত ফরিদুল রহমান খান হিরুর ছেলে মো. রুবেল খান (৪২), মো. রাজিব খান (৩৫), মো. রানা খান (৩০) এবং স্থানীয় মো. রাকিব (২৫) দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে আরও জানা যায়, গত ১৪ জুন ২০২৫ তারিখ বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে ধারালো দা, লাঠি, ফালা ও লোহার রডসহ জালালপুর মৌজায় বাদীর দখলীয় জমিতে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তারা জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করেন বলে বাদীর দাবি।
বাদী ও তার পরিবারের সদস্যরা এতে বাধা দিলে অভিযুক্তরা তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। পরে চিৎকার ও গণ্ডগোলের শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
বাদীর অভিযোগ, ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় অভিযুক্তরা তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। তফসিলভুক্ত জমি ছেড়ে না দিলে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, ওই জমি দখলকে কেন্দ্র করে যে কোনো সময় এলাকায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। তিনি তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এদিকে মামলা দায়ের করার সংবাদে সংক্ষুব্ধ হয়ে আজম খান দাঁড়িয়ে থেকে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দিয়ে জমিতে একটি পাকা দালান ও একটি টিনের ঘর উঠিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাদী ও তার পরিবার।
এ বিষয়ে মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
