স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশের ১২ তম সিটি কর্পোরেশন ময়মনসিংহ আয়তনে দেশের ৭ম ও জনসংখ্যায় ৮ম বৃহত্তম মহানগর । বৃহত্তম এই নগরীতে বিল্ডিং কোড না মেনে নির্মাণ করা হচ্ছে শত শত বহুতল ভবন। নকশা বহির্ভূতভাবে একের পর এক বহু্তল ভবন তৈরি করে সৃষ্টি হচ্ছে মরণফাঁদ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এর নেপথ্যে রয়েছে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইউসুফ আলী। ইউসুফ আলী ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনে ৫ জানুয়ারি ২০২২ সালে যোগদানের পর থেকেই শুরু হয় একের পর এক অনিয়ম।২০১৭ সালের প্রজ্ঞাপন এ নিষেধ থাকলেও প্রধান নির্বাহীর উদ্যোগে বেআইনিভাবে দেয়া হয় ২০১৭-১৮ সালের বহুতল ভবনের নকশার অনুমোদন।মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে কোন নিয়ম নীতি না মেনে ২০১৭-১৮ সালের নকশা অনুমোদন করিয়ে দেন ইউসুফ আলী। সিটি কর্পোরেশনের ব্যয়বহুল বাজেটে নিম্ন মানের রাস্তা ঢালাই , ড্রেননির্মাণ করে ঠিকাদারদের মাধ্যমে হাতিয়ে নেন কোটি কোটি টাকা।ইউসুফ আলীর নির্দেশে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা ও মিশুকের লাইসেন্স নিতে ও নবায়নে চরম মুল্য পরিশোধ করতে হয়।ময়মনসিংহ নগরীতে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক লাইটিং ব্যবস্থা তেও ব্যাপক অনিয়ম করে দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনে প্রায় শতাধিক লোকের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে মাস্টার রোলে চাকরি দিয়ে দুর্নীতি করে অবৈধ টাকার মালিক হয়েছেন। ময়মনসিংহ নগরীতে মশক নিধন কার্যক্রমের নামে ঔষধের বদলে কেরোসিন দিয়ে স্প্রে করা হচ্ছে।এতে করে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে একই সাথে প্রতিনিয়তই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে ময়মনসিংহে। প্রতারণা করে এই ওষুধের অর্থও হাতিয়ে নিচ্ছেন ইউসুফ আলী। নগরীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নামেও প্রতিনিয়তই অর্থ আত্মসাৎ করছেন।

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ অর্থ দিয়ে ময়মনসিংহের তৈমুর এক্সেল টাওয়ার সহ ঢাকায় রয়েছে একাধিক ফ্ল্যাট।স্ত্রী সন্তানদের নামেও রয়েছে একাধিক সম্পদ। এই অবৈধ সম্পদের সরকারি কোন হিসাব না থাকায় ফাঁকি দিচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব।
জানা যায়, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইউসুফ আলীর পৈত্রিক বাড়ি ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের ২৯ নং ওয়ার্ড গন্ডপা এলাকায়।তা সত্ত্বেও ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পরিবেশ অধিদপ্তর পরবর্তীতে ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ময়মনসিংহের জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমী (ন্যাপ) এ কর্মরত থেকে ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনে প্রধান নির্বাহী হিসেবে যোগদান করেন। প্রায় এক যুগ যাবৎ নিজ বাড়ির সিটি কর্পোরেশন এলাকার বিভিন্ন দপ্তরে চাকুরীর সুবাদে থেকে এক বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে দুর্নীতির আখড়া তৈরি করে জ্ঞাত আয় বহিরভূত কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ করেন।
এই দুর্নীতিবাজ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইউসুফ আলী কে দুদকের আওতায় এনে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি উন্মোচন করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানিয়েছেন ময়মনসিংহ সিটি বাসী।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *