সামদানি হোসেন বাপ্পী
ময়মনসিংহ।
এজাহারে বাদীর বক্তব্য ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায় যে, বাদী মোঃ মিলন মিয়া (৩৩) এর স্ত্রী ও বিবাদী মোঃ হারুন (৩০) একই কোম্পানীতে চাকরি করে। সেই সুবাদে বাদীর ০৮(আট) বছরের ছেলে ভিকটিম বিবাদী মোঃ হারুনকে চিনে। ঘটনার দিন ইং ০৪/০৬/২০২৪ তারিখ দুপুর ০৩.২৯ ঘটিকায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ভিকটিমের মাদ্রাসায় বড় হুজুর আনসারুজ্জামান খানকে কল দিয়ে সে নিজেকে ভিকটিমের পিতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলে আমাদের আত্মীয় আমার ছেলের মাদ্রাসার সামনে এসেছে এবং আমার ছেলেকে ছুটি দিলে আমাদের আত্মীয় তাকে বাসায় নিয়ে যাবে। তখন মাদ্রাসার বড় হুজুর বিবাদী মোঃ হারুন সহ অজ্ঞাতনামা আরো ০১ জনকে দেখিয়ে দিলে ভিকটিম তাদের চিনে মর্মে তাদের সাথে যেতে দেয়।
পরবর্তীতে, বাদীর ছেলে রাতে বাসায় খেতে না আসলে বাদী মাদ্রাসায় গিয়ে বড় হুজুরকে তার ছেলে ভিকটিম কোথায় জিজ্ঞেস করলে বড় হুজুর ঘটনার বিস্তারিত জানালে ভিকটিমের পিতাসহ পরিবারের অন্যান্য লোকজন ভিকটিমকে খোঁজাখুঁজি করে। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে বাদীর মোবাইল ফোনে অজ্ঞাতনামা মোবাইল নাম্বার থেকে ফোন করে ৫০,০০০/- টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরবর্তীতে, ভিকটিমের পিতা মোঃ মিলন মিয়া(৩৩) বাদী হয়ে ময়মনসিংহের ভালুকা থানায় একটি অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবীর মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনার পর পরেই র্যাবের একটি দল ঘটনার বিষয়ে ছায়াতদন্তে নামে এবং ভিকটিম উদ্ধার ও আসামী গ্রেফতারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে।
এরই ধারাবাহিকতায়, বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে অধিনায়ক র্যাব-১৪, ময়মনসিংহ মহোদয়ের নির্দেশক্রমে র্যাব-১৪ ও র্যাব-১ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল গাজীপুর মেট্রোপলিটনের গাছা থানাধীন এলাকা হতে আসামী ১। মোঃ আঃ আলিম(২৮), পিতা- মোঃ আবুল কাশেম, সাং- রামবিরাশি, থানা- মুক্তাগাছা, জেলা- ময়মনসিংহ এবং আসামী ২। বিপ্লব(৩৫), পিতা- মোঃ আঃ কাদের, সাং- তাচতালু, থানা-পীরগঞ্জ, জেলা- রংপুরদ্বয়কে গ্রেফতার ও ভিকটিম উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
ধৃত আসামিদ্বয়কে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
