নিরব হাসান
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার দেওখলা ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আপন ভাতিজার হামলায় দুই চাচা গুরুতর আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আহতদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দেওখলা ইউনিয়নে জুয়েল নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও কিশোরদের মাদকের সঙ্গে জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, স্কুল-কলেজপড়ুয়া কিছু তরুণকে ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা পরিচালনার কারণে এলাকায় মাদক সেবনের প্রবণতা বাড়ছে। তার বিরুদ্ধে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একটি দল পরিচালনার অভিযোগও করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
এদিকে দুলাল নামে আরেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে জমি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। তাদের দাবি, একই জমি একাধিকবার বিক্রি করা, জমি বায়না করে টাকা পরিশোধ না করা এবং বিভিন্নভাবে মানুষকে হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। রোকেয়া খাতুন নামে এক নারী অভিযোগ করেন, তিনি কষ্ট করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে দুলালের সঙ্গে জমির বায়না করলেও বায়নার টাকা নিয়ে তিনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করেননি। রোকেয়া খাতুনের স্বামী সুরুজ আলী স্থানীয় বাজারে ঝাড়ুদারের কাজ করেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া রিজন ও ফরহাদ নামে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তাদের কর্মকাণ্ডে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, বিজিপি আবুল কালামের ছেলে মনির হোসেনকে মারধরের অভিযোগও রয়েছে রিজন ও ফরহাদের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে আবুল কালামের বাতিজা জুয়েলের বিরুদ্ধে করিম আর্মির মেয়ের গলার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চেইনটির আনুমানিক বাজারমূল্য ৬০ হাজার টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ফুলবাড়িয়া মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ, মাদক, ভয়ভীতি ও কথিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে দেওখলার পরিবেশ অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। তারা এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে অভিযুক্ত জুয়েল, দুলাল, রিজন ও ফরহাদের বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পুলিশের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।
