যৌতুকের দাবি‌তে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্রী তানজিলা আক্তার তা‌হেরাকে (২১) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী জিসান আহমেদের (২১) বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় তানজিলার বাবা সাবেক সেনা কর্মকর্তা তোবারেজ মোল্লা ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে সদর সা‌র্কে‌লের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সালাউদ্দিন। এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে জিসান আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে কোতয়ালী থানা পুলিশ।
এর আগে বুধবার রাত ১০ টার দিকে জিসান শহরতলির গঙ্গাবর্দী এলাকার মারকাজ মসজিদের পাশের ভাড়া বাড়িতে তানজিলাকে পিটিয়ে আহত করে আত্মহত্যার চেষ্টা দেখিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভা‌গে নিয়ে যায়।
জরুরী বিভাগে কর্তব‌্যরত চি‌কিৎসক ডা. লিটন গাঙ্গুলী তানজিলার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে তাকে সার্জারি ওয়ার্ডের ভর্তি করে দেন। ভ‌র্তির পর পরই তার মৃত্যু হয়।
নিহত তানজিলা আক্তার তা‌হেরা ফরিদপুর সদরের ডোমরাকান্দি উত্তর পাড়া গ্রামের তোবারেজ মোল্লার মেয়ে। প্রায় পাঁচ মাস আগে প্রেম করে পা‌শের পূর্ব গঙ্গাবর্দী এলাকার জাহিদ ফকিরের ছেলে জিসান আহমেদের সাথে বিয়ে হয়।
তানজিলার বাবা তোবারেজ মোল্লা বলেন, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য আমার মেয়েকে জিসান ও তার মা জবেদা বেগম নির্যাতন করত।জিসানকে নতুন মোটর সাইকেল‌ কি‌নে দেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আমাদের বাড়িতে পাঠিতে দিত। আবার জিসানকে বিদেশে পাঠাতে টাকা চেয়ে পাঠাত।আমার মেয়েও এ বিষয়ে সায় না দেওয়ায় দুই মাস আগে মারধর ক‌রে।
তিনি বলেন, গত কাল রাত ৮ টার দিকে আমার মেয়ের সাথে কথা হয়। রাত ১২ টার দিকে আমার মেয়ের নাম্বার দিয়ে জিসানের এক বন্ধু ফোন করে বলে তানজিলা আত্মহত্যা করতে গেছিল আমরা তাকে মেডিকেলে ভর্তি করেছি। আমরা রাতেই হাসপাতালে গিয়ে মেয়ের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখি। জিসান বা কাউকে আমরা তখন কাছে পাইনি।
তিনি বলেন, আমার মেয়ের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। জিসান নেশাগ্রস্থ ছিল। যৌতুক না পেয়ে আমার মেয়েকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। ভাড়া বাড়িতে থাকার আগে যখন শ্বশুর বাড়ি ছিল। তখন শ্বশুর বাড়ির লোকজনও তাকে পিটিয়ে আহত করেছে।
ত‌বে মারধ‌রের অ‌ভি‌যোগ অস্বীকার ক‌রে জিসানের মা জবেদা বেগম বলে, জিসান ও তানজিলা দুজন ভালবেসে বিয়ে করেছিল। তাকে কেন নির্যাতন করতে যাবে? আর আমিও কখনও যৌতুকের জন্য তানজিলাকে নির্যাতন করিনি। জিসান আমাকে গতকালের ঘটনা যা বলেছে তা হল, জিসান বাড়ির রা‌তে একজনের কাছ থেকে টাকা আনার জন্য অপেক্ষা করছিল। রাত ১০টার পরে তানজিলার ফোনে সে বাড়ির উদ্দ্যেশে রওনা হন টাকা না নিয়েই। বাড়িতে গিয়ে সে দরজা বন্ধ দেখতে পান। পাশের এক দোকান থেকে রড নিয়ে দরজা ভেঙে জিসান দেখতে পায় তানজিলা ফ্যানের সাথে ঝুলে আছে। তার পর স্থানীয় লোকজনদের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল মো. সালাউদ্দিন বলেন, জিসান ও তানজিলার মধ্যে দাম্পত্য কলহ ছিল। যৌতুকের জন্য তানজিলাকে নির্যাতন করা হত। জিসানের পরিবারের পক্ষ হতে আত্মহত্যার কথা বলা হলেও তানজিলার শরীরে অস্বাভাবিক কিছু জখমের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনার মেয়ের বাবা অভিযোগ দি‌য়ে‌ছেন। আমরা জিসানকে আটক করেছি। অনেকগুলো দিক বিবেচনা করে আমরা এগুচ্ছি। তবে এখনই এটিকে হত্যা বলতে পারছি না। এটি হত্যা না আত্মহত্যা এ বিষয়ে ময়না তদন্ত প্রতি‌বেদন পাওয়ার নি‌শ্চিত ক‌রে বলা যাবে। আমাদের আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে লাশ প‌রিবা‌রের সদস‌্যদের কা‌ছে হস্তান্তর করা হ‌য়ে‌ছে।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *