স্থানীয় প্রতিনিধি
ফরিদপুরে বিষধর সাপ রাসেলস ভাইপার সাপের কামড় থেকে রক্ষা পেতে কৃষকদের গামবুট দিলেন জেলা প্রশাসক।
রবিবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের চত্বরে কৃষকদের মাঝে গামবুট বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক মো. কামরুল আহসান তালুকদার।
এ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক চৌধুরী রওশন ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইয়াছিন কবীর, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রামানন্দ পাল, সদর উপজেলার ইউএনও তামান্না তাসনীম ও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন প্রমুখ ।
জেলা প্রশাসক বলেন, রাসেলস ভাইপারের ভয়ে কৃষকরা ক্ষেতে ফসল তুলতে যেতে পারছিল না। কৃষকদের কথা চিন্তা করে সাপের কামড় থেকে বাঁচাতে গামবুট দেওয়া হয়েছে। চরাঞ্চলের চাষিদের মাঝে গামবুট দেওয়া হলো। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ইউনিয়নের কৃষকদের মাঝে গামবুট বিতরণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে মাইকিংসহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুদ করা হয়েছে। চরাঞ্চলের কাউকে সাপে কামড় দিলে দ্রুত হাসপাতালে আনার জন্য স্পিড বোটের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। কৃষকদের সব ধরণের সহযোগিতা করতে প্রশাসন প্রস্ত্তত। জেলা প্রশাসন সব সময় কৃষকদের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
গামবুট পেয়ে জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে কৃষাণী রোকেয়া বেগম বলেন, পদ্মা নদীর পাড়েই আমাদের বাড়ি। সাপের ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারতাম না। গামবুট পড়ে আমরা নিরাপদে ক্ষেতে যেতে পারব।নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারব। আরেক কৃষক রাশেদ শেখ বলেন, এতদিন সাপের ভয়ে ক্ষেতে যেতে পারতাম না। এখন গামবুট পেয়ে নিজেকে রক্ষা করতে পারব। নিশ্চিন্তে ক্ষেতে যেতে পারব। নিরাপদে ক্ষেতের ফসল ঘরে তুলতে পারব।
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে রাশেদ শেখ বলেন, জেলা প্রশাসক স্যার দূরদর্শী ও মহৎপ্রাণ।তার জন্যেই আজ আমরা সুরক্ষা পেলাম।কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই স্যারকে।
সম্প্রতি ফরিদপুরের পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে রাসেলস ভাইপার সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়।সাপের আতঙ্কে ক্ষেতে যেতে পারছেন না কৃষক। এতে ক্ষেতেই অনেক ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল।
সাপের কামড়ে একাধিক ব্যক্তির মৃত্যুও হয়েছে। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন আরও কয়েকজন।
এ অবস্থায় রাসেলস ভাইপারের কামড় থেকে রক্ষা পেতে জেলা প্রশাসন থেকে গামবুট দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
রবিবার নর্থচ্যানেল ও ডিক্রিরচর ইউনিয়নের দুই শতাধিক কৃষকের মাঝে গামবুট বিতরণ করা হয়।
পর্যায়ক্রমে প্রত্যেক ইউনিয়নের কৃষকদের মাঝে গামবুট দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।
