নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনা
জেলার কেন্দুয়ায় একটি মাছের প্রকল্পের পুকুরে ঢুকে প্রায় সাত লাখ টাকার মাছ চুরি এবং পুকুর ও হাঁসের খামারে বিষ প্রয়োগের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৬ থেকে ৭ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন রোকনুজ্জামান খান রোকন (৪০)।
অভিযোগকারী রোকনুজ্জামান খান রোকন ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মুকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর মামা মোঃ মনোয়ার হোসেন তালুকদারের কেন্দুয়ার সিংহেরগাঁও এলাকায় ‘সিংহেরগাঁও এগ্রো ফার্ম লিমিটেড’ নামে একটি মাছের প্রকল্প ও প্রায় ৭০০ হাঁসের খামার রয়েছে। মামা বিদেশে থাকায় তিনি ওই পুকুর ও খামার দেখাশোনা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৭ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক দুইটা থেকে চারটার মধ্যে রিপন তালুকদার (৪৭), জাহেদ তালুকদার (৫২), শাহজাহান (৪১) ও রতন মিয়াসহ (৬০) অজ্ঞাতনামা কয়েকজন দা, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে পুকুরে প্রবেশ করেন। পরে জাল দিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরে নিয়ে যান। চুরি হওয়া মাছের আনুমানিক মূল্য সাত লাখ টাকা বলে অভিযোগকারীর দাবি।
পুকুরের পাহারাদার আব্দুল্লাহ বিষয়টি দেখে তাঁদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকে মারধরের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এগিয়ে যান বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। পরে প্রাণভয়ে তিনি ঘটনাস্থল থেকে সরে গিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নেন।
রোকনুজ্জামান অভিযোগে আরও বলেন, পরদিন ৮ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে তিনি পুকুরে যাওয়ার সময় দেখতে পান, পুকুরের পাড়ে বাঁশের বেড়া দিয়ে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। এ বিষয়ে সেখানে থাকা জাহেদ তালুকদার ও শাহজাহানের কাছে জানতে চাইলে তাঁরা তাঁকে গালিগালাজ করেন এবং পুকুর ও হাঁসের খামারে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ও হাঁস মেরে ফেলার হুমকি দেন।
অভিযোগকারীর দাবি, মাছ চাষ বা মাছ ধরতে পুকুরে গেলে তাঁকে প্রাণে মেরে লাশ গুম করারও হুমকি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পুকুরের পাহারাদারকেও দায়িত্ব পালন না করার জন্য ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
রোকনুজ্জামানের ভাষ্য, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর মামার বিরোধ দীর্ঘদিনের। তাঁরা বিভিন্ন সময় পুকুরের মাছ চাষে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ও মাছ চুরি করে আসছেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তা মানেননি। বরং তাঁরা ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন।
এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন রোকনুজ্জামান। তাঁর আশঙ্কা, যেকোনো সময় পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ এবং হাঁসের খামারে বিষ প্রয়োগ করে বড় ধরনের ক্ষতি করা হতে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত রিপন তালুকদারের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হয়। তবে তিনি কল ধরেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। অন্য অভিযুক্তদের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ তরিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
