মামলার এজাহার পর্যালোচনা এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোণার আটপাড়া থানাধীন তেলিগাতী ইউনিয়নের পালগাঁও গ্রামের ভিকটিম সেলিনা আক্তার ও তার স্বামীর সাথে আসামিদের দীর্ঘদিন যাবৎ মামলা মোকদ্দমা চলে আসতেছিল। ঘটনার কিছুদিন পূর্বে ভিকটিম সেলিনা আক্তার নেত্রকোণা জেলার আটপাড়া থানায় বাদী হয়ে আসামি মাসুদ মিয়া(৩০) সহ ০৫ জনের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-১৫(১২)২০২৩খ্রি., ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০, (সংশোধনী/২০২০) এর ৯(১)/৩০। উক্ত মামলা দায়েরের পর থেকে আসামিরা ভিকটিম সেলিনা আক্তার এর প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনার দিন ইং ০৩ জানুয়ারি রাত্রী অনুমান ১ টা ১০ মিনিটে আসামিরা রামদা, কিরিচ, লোহার রড ও চাপাতি নিয়ে ভিকটিম সেলিনা আক্তার এর বাড়ীতে প্রবেশ করে এবং ঘরের দরজা লাথি মেরে ভেঙ্গে ভিকটিম সেলিনা আক্তার‘কে বাড়ীর উঠানে নিয়ে আসে। সকল আসামিরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ভিকটিম সেলিনা আক্তার এর মাথায়, বুকে ও পেটে এলোপাথারি আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। সংবাদ পেয়ে বাদী পুলিশের সহায়তায় রাত ০৪.০০ টার সময় ভিকটিম সেলিনা আক্তারকে উদ্ধার করে প্রথমে আটপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। সেখানে কর্তৃব্যরত চিকিৎসক তাৎক্ষনিকভাবে ভিকটিম সেলিনা আক্তার‘কে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ঐদিন ভোরবেলা কর্তৃব্যরত চিকিৎসক ভিকটিম সেলিনা আক্তার‘কে মৃত বলে ঘোষনা করেন। ভিকটিম সেলিনা আক্তার‘কে হত্যার ঘটনায় নেত্রকোণা জেলার আটপাড়া থানা এলাকাসহ সারাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় নিহতের ননদ বেদেনা আক্তার (৩৫), স্বামী- হাবিকুল, গ্রাম-যোগিরনগুয়া, থানা-আটপাড়া, জেলা-নেত্রকোণা গত ০৮ জানুয়ারি ২০২৪ খ্রি. তারিখে এজাহারনামীয় ১০ জন‘সহ অজ্ঞাতনামা আরো ০৪/০৫ জন‘কে আসামী করে নেত্রকোণা জেলার আটপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। যার মামলা নং-০৬, তারিখঃ ০৮/০১/২০২৪খ্রি., ধারাঃ ৩০২/১১৪/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০। উক্ত ঘটনার পর থেকে আসামিরা তাদের নিজ বাড়ি ত্যাগ করে গা ঢাকা দিয়ে ছদ্মবেশে পলাতক ছিল।
এরই প্রেক্ষিতে, বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে অধিনায়ক র্যাব-১৪, ময়মনসিংহ এর নির্দেশক্রমে র্যাব-১৪, সদর ব্যাটালিয়নের অপারেশনস্ অফিসার উপ-পরিচালক মোঃ আনোয়ার হোসেন এর নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল ইং ২৩ জানুয়ারি সন্ধা অনুমান ১৯.০০ ঘটিকা হতে ২৩.৫০ ঘটিকা পর্যন্ত বিভিন্ন সময় টঙ্গি সহ গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় র্যাব-১ এর সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে হত্যা মামলার আসামি ১। মোঃ নুরুল হক (৩৮), ২। মোঃ সম্রাট মিয়া (৫০), ৩। সামছুল হক (৪৫), সকলের পিতা-মৃত চান মিয়া ফকির, ৪। মোঃ মাসুদ মিয়া (৩০), পিতা-কালাম উদ্দিন মুন্সী, ৫। মোঃ হিমন মিয়া (৩০), পিতা-মৃত গিয়াস উদ্দিন, ৬। মোঃ রোকন মিয়া (৩০), পিতা-মৃত নুর মিয়া, সর্ব সাং-পালগাঁও, থানা-আটপাড়া, জেলা-নেত্রকোণা’দেরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদেরকে নেত্রকোণা জেলার আটপাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে,র্যাব-১৪, ময়মনসিংহ কর্তৃক গত ইং ২১ জানুয়ারি এই মামলার আসামি ১। মোঃ অসীম (২৫), ২। মোঃ রাজু মিয়া (২৩), উভয় পিতা-শাহ জাহান, সাং-পালগাঁও, থানা-আটপাড়া, জেলা-নেত্রকোণা’দেরকে গ্রেফতার করে নেত্রকোণা জেলার আটপাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
