নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রবাদে আছে ‘বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে’ঠিক এমনটাই ঘটেছে জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার হাতীভাঙ্গা ইউনিয়নে। ওই ইউনিয়নের সবুজপুর গ্রামের জনৈক মৃত মকবুল হোসেনের বড় ছেলে ও সবুজপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সহকারি শিক্ষক মোঃ মনিরুজ্জামান মজনুর বিরুদ্ধে তার ৭ মাসের গর্ভবতী স্ত্রীকে যৌতুকের দাবীতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে বিজ্ঞ মামলা আমলে নেওয়ার আদালত, দেওয়ানগঞ্জ, জামালপুরে গতকাল একটি মামলা দায়ের করেছে অসহায় গৃহবধু মোছাঃ সাবনাজ রহমান (সেতু)।
জানা গেছে, দূর সম্পর্কের আত্মীয়তার সূত্র ধরে মোঃ মনিরুজ্জামান মজনুর সাথে পরিচয় হয় দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চর আমখাওয়া ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুস সবুরের মেয়ে মোছাঃ সাবনাজ রহমান সেতুর। তারপর একপর্যায়ে স্ত্রী সন্তানের কথা গোপন করে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে বিগত ৫ আগষ্ট ২০১৯ সালে অবিবাহিত সেতুকে বিয়ে করে মজনু। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর সে তার পুর্বের স্ত্রী সন্তানের অস্তিত্ব জানান দিলে তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে ফাটল ধরে। যে কারণে সেতুর ওপর চলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং যৌতুকের জন্য চাপ। সেই অত্যাচার থেকে মুক্তির জন্য সেতু বাধ্য হয়ে মজনুকে তালাক দেয়। কিন্তু মজনু নাছোরবান্দা। তার কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হওয়ার অভিনয় করে সুকৌশলে আবারও সেতুকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ঘর সংসার করবে মর্মে পূণরায় বিগত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ইং সালে তিন লাখ টাকা দেন মোহর ধার্য করে বিবাহ রেজিষ্ট্রি করে মজনু। তারপর কিছুদিন যেতে না যেতে সেতু গর্ভবতী হয়ে পড়ে। সে খবর জানতে পেরে সেতুর গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে মজনু কিন্তু সেতু সে সন্তান নষ্ট করতে রাজী না হলে মজনু তার পূর্বের রূপ ধারণ করে আর আবারও মোটা অঙ্কের টাকা এনে দেওয়ার জন্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে থাকে সেতুর ওপর। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে সেতুর সুখের কথা চিন্তা করে তার বিধবা মা ধারকর্জ করে প্রায় দেড়লক্ষ টাকার ফার্ণিচার মজনুর বাড়িতে পাঠায়। কিন্তু তাতেও লোভ সংবরণ করতে পারেনি মজনু। আরও ৫ লাখ টাকা যৌতুকের দাবীতে মজনু তার পূর্বের স্ত্রী ও মা সহ সেতুকে শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেয় আর মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। তারপর সেতু দেওয়ানগঞ্জ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে দেওয়ানগঞ্জ থানায় অভিযোগ করলেও প্রভাবশালী মজনুর অদৃশ্য কলকাঠিতে সে অভিযোগ আর আলোর মুখ দেখেনি। এরপর শালীস বৈঠকেও প্রকাশ্যে যৌতুক দাবী করে নতুবা সেতুকে তালাক দিবে মর্মে ঘোষণা দেয়। এদিকে সেতু যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সে তার ভাড়োটে গুন্ডাবাহিনী ও তার পক্ষাশ্রিত মাতব্বরদের যোগসাজশে সেতুর কাছ থেকে জোপূর্বক তালাকের কাগজে স্বাক্ষর নেয়। তারপর সেতুকে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দিলে সেতু প্রাণভয়ে বাড়িছাড়া হয়ে অবশেষে গতকাল মজনুর বিরুদ্ধে বিজ্ঞ মামলা আমলে নেওয়ার আদালত, দেওয়ানগঞ্জ, জামালপুরে মামলা দায়ের করে। সেতু সাংবাদিকদের মাধ্যমে লম্পট ও যৌতুকলোভী প্রতারক স্বামী মজনুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য ন্যায় বিচারের দাবীর পাশাপাশি তার ও তার অনাগত সন্তানের জীবনের নিরাপত্তার জোর দাবী জানিয়েছেন।
