মোঃ নাসিরউদ্দিন
স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার রায়ঘাটি ইউনিয়নের (ইউপি) সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি আয়েন উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ সহচর বাবলু হোসেন তানোর উপজেলা থেকে বিভিন্ন কৌশলে সার পাচার করে মোহনপুর উপজেলা নিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।এনিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।তারা বলছে,তানোরে একজন কৃষক যখন ডিলারের কাছে এক বস্তা সার পাচ্ছেন না, তখন তানোর থেকে বস্তার বস্তার সার আওয়ামী লীগ নেতা কিভাবে মোহনপুর পাচার করছে। তারা বলছে,আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সাবেক এমপি আয়েন উদ্দিনের প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ কৃষকদের জিম্মি করে বাবলু রায়ঘাটি ইউপির বিভিন্ন মাঠে শত শত বিঘা ফসলি জমিতে অবৈধ পুকুর খনন করেছেন।এসব পুকুরে মাছ চাষ করতে তানোর উপজেলা থেকে সার পাচার করে নিয়ে আসছেন।
স্থানীয়রা জানান, তানোর উপজেলার কলমা ইউনিয়নের (ইউপি) চন্দনকৌঠা মাঠে বাবলুর পুকুর রয়েছে। বাবলু মাছ চাষের কথা বলে ডিলারের কাছে থেকে সার সংগ্রহ করে পুকুর পাড়ে মজুদ করে এবং সুযোগ বুঝে সেই সার মোহনপুর উপজেলায় পাচার করছে।ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পতন হলেও এই প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা বাবলুর দাপট কমেনি।দীর্ঘদিন যাবত বাবলু এভাবে সার পাচার করে আসলেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসন নিরব ? স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে আটকের দাবি করেছে।
স্থানীয়রা জানান,তানোর উপজেলার আজিজপুর মোড়ের মেসার্স রহিমা টেড্রার্স থেকে এসব সার সংগ্রহ করেন।তবে রহিমা টেড্রার্সের স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম বাবলুর কাছে সার বিক্রির কথা অস্বীকার করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার (১এপ্রিল) তানোর থেকে অটোভ্যানে করে বিপুল পরিমাণ সার নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো মোহনপুর উপজেলার রায়ঘাটি ইউপির বাবলুর মাছের ঘেরে (পুকুর)।এদিন দুপুরে তানোর উপজেলার কামারগাঁ ইউপির কচুয়া রাস্তায় কৃষকেরা সার বোঝাই একটি অটোভ্যান থামিয়ে প্রশাসনকে অবগত করেন।কিন্ত্ত প্রশাসনের কাছে থেকে তেমন কোনো সাড়া না পেয়ে সার বোঝাই অটোভ্যান ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।এনিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে বাবলু হোসেন বলেন, তানোরের কলমা ইউপির চন্দনকৌঠা মাঠে তার পুকুর রয়েছে।তিনি বলেন,সেখান থেকে এসব সার রায়ঘাটি তার পুকুরে নেয়া হচ্ছে,তিনি বলেন, কৃষকেরা যদি বাধাদেয় তাহলে তিনি আর সার আনবেন না।#
