স্থানীয় প্রতিনিধি

টাঙ্গাইল শহরের বড় কালিবাড়ি এলাকায় স্ত্রীর মর্যাদা পেতে গিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন এক নারী। ভুক্তভোগী নারী জলি আচার্য্য, যিনি টাঙ্গাইল শহরের এক টেইলার্সের কর্ণধার। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, টাঙ্গাইল শহরের কাপড়ের দোকান শাড়িকা’র কর্ণধার বিমল চন্দ্র সাহার সাথে ব্যবসার সূত্র ধরে জলি আচার্যের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর হিন্দু রীতি অনুযায়ী তাঁরা বিয়ে করেন।

জলি আচার্য্য জানান, ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার সদর এলাকার একটি মন্দিরে পুরোহিত সুদাংসু চাকরবর্তী তাঁদের প্রথম বিয়ে পড়ান।

পুরোহিত সুদাংসু চাকরবর্তী বলেন, “তাঁদের বৈধ কাগজপত্র দেখে আমি বিয়ে পড়িয়েছি, তাঁদের ছবি আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। এছাড়া অত্র এলাকায় তাঁদের আত্মীয়-স্বজনও রয়েছে।”

বিয়ের পর দীর্ঘ চার বছর একসঙ্গে সংসার করার পর সম্প্রতি জলি আচার্য্য স্ত্রী হিসেবে সামাজিক স্বীকৃতি চাইলে ঘটতে থাকে নানা বিপত্তি। টাঙ্গাইল শহরের একটি ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করলেও, স্বামীর পরিবার এই সম্পর্ক মেনে নেয়নি। স্ত্রীর মর্যাদা না পাওয়া পর্যন্ত তিনি স্বামীর বাড়িতেই অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু পারিবারিক নির্যাতনের মুখে তাঁকে ফিরে আসতে হয়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, স্ত্রীর স্বীকৃতি দাবিতে অনশন করার পর থেকেই বিমলের পরিবারের লোকজন তাঁকে দফায় দফায় নির্যাতন করছে। একপর্যায়ে স্বামীর বাড়িতে গেলে তাঁকে রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

জলি আরও অভিযোগ করেন, “আমি আইনি সহযোগিতা চাইলে আমাকে মারধরের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে আমার বাসার গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।”

বিমল চন্দ্র সাহার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, এক ব্যক্তি নিজেকে বিমলের বড় বোনের জামাই পরিচয় দিয়ে বলেন, “এই বিষয়ে আমরা কিছু জানি না, বিমলই ভালো জানে।”

এদিকে, বিমলের পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা পরিচয়দানকারী ব্যক্তি প্রতিবেদককে ফোন দিয়ে বলেন, “সংবাদটি প্রকাশ না করার অনুরোধ করছি। বিমল একজন ভালো মানুষ, তিনি এমন কাজ করতে পারেন না। আমরা তাঁকে চিনি।”

জলি আচার্য্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, টাঙ্গাইলে পি-মোকদ্দমা নং-৩২১/২০২৪ মামলাটি দায়ের করেন। এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, “আমি নতুন এসেছি। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।”

বর্তমানে ভুক্তভোগী নারী ন্যায়বিচারের আশায় অপেক্ষা করছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে টাঙ্গাইলজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *