ইউসুফ আব্দুল্লাহ
বিশেষ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের রুকন শহিদুল্লাহর মুঠোফোনে ধারণ করা স্বামী-স্ত্রীর একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ব্ল্যাকমেইলিং ও অর্থ দাবির অভিযোগে গত ৫ নভেম্বর ২০২৬ ময়মনসিংহের বিজ্ঞ ১ নম্বর আমলি আদালতে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর একাধিক ধারায় মামলা করেছেন তিনি।
শহিদুল্লাহ ময়মনসিংহ সদর উপজেলার নওমহল এলাকায় বসবাস করেন। তিনি আল-আরাবিয়া দাখিল মাদ্রাসার অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাসেবাও দিতেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে শহিদুল্লাহর মুঠোফোনে ধারণ করা স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও তাঁর অসতর্কতার সুযোগে আল-আরাবিয়া দাখিল মাদ্রাসার সাবেক দুই শিক্ষার্থী কৌশলে সংগ্রহ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছে ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। এ ঘটনায় শহিদুল্লাহ গত ২৭ অক্টোবর ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি ময়মনসিংহ সদর ৩ নম্বর পুলিশ ফাঁড়িতে পাঠানো হলে উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম রব্বানীকে প্রাথমিক তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। শহিদুল্লাহর দাবি, থানায় অভিযোগ দায়েরের পর তদন্ত শুরু হলে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার শুরুতে আল-আরাবিয়া দাখিল মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষার্থী বুরহান সুলতান মুগ্ধ (পিতা: আব্দুস সুলতান) ও রাকিব (পিতা: হাফিজুর রহমান) ভিডিওটি প্রকাশ না করার বিষয়টি সমাধানের কথা বলে তাঁর কাছে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। বিষয়টি তিনি প্রথমে মুগ্ধর বাবাকে জানান। এতে মুগ্ধ ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন বলেও অভিযোগ করেন শহিদুল্লাহ। শহিদুল্লাহর দাবি, বুরহান সুলতান মুগ্ধ ও রাকিব অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছাত্রলীগ ও বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
অন্যদিকে, গত ২ নভেম্বর বিল্লাল হোসেন মানিক নামে এক ব্যক্তি শহিদুল্লাহর স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ভিডিও-সংক্রান্ত একটি ফটোকার্ড ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। বিল্লাল হোসেন মানিক ময়মনসিংহ সদর উপজেলার আকুয়া দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা। তাঁর পিতার নাম মৃত জয়নাল আবেদীন। স্ত্রী ২জন হওয়ায় বর্তমানে তিনি চর রাঘবপুর আকুআলী মসজিদসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করেন বলে জানা গেছে। বিল্লাল হোসেন মানিক অতীতে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় একাধিক মামলা হয়েছে এবং তিনি সাজাও ভোগ করেছেন।
এ ঘটনায় গত ৫ নভেম্বর শহিদুল্লাহ বাদী হয়ে ময়মনসিংহের বিজ্ঞ ১ নম্বর আমলি আদালতে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮(১), ৮(২), ৮(৩), ৮(৫) ও ৮(৭) ধারায় মামলা দায়ের করেন।
মামলায় বুরহান সুলতান মুগ্ধ, রাকিব, বিল্লাল হোসেন মানিক, খলিলুর রহমান, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও হৃদয় খান রিসানসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, মুঠোফোনে ধারণ করা ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় শহিদুল্লাহকে জামায়াতে ইসলামীর রুকন পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। একই ঘটনায় ময়মনসিংহের নওমহল এলাকার আল-আরাবিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকেও তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের মিডিয়া বিভাগের বার্তা সম্পাদক জানান, স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করা শরিয়তবিরোধী ও গুনাহের কাজ। তবে কারও একান্ত ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা কিংবা প্রকাশের হুমকি দিয়ে অর্থ আদায় করা গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত করে আইনানুগ বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
গত ২ নভেম্বর শহিদুল্লাহ ও তাঁর স্ত্রীর ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা নিয়ে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্বামী-স্ত্রীর একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও প্রকাশের ঘটনাকে তাঁরা সামাজিক অবক্ষয় হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে ওই ভিডিওকে কেন্দ্র করে অর্থ দাবি, চাঁদাবাজি কিংবা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তাঁরা। তবে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও মুঠোফোনে ধারণ ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও আরও সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত ছিল বলে মত দিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন।
