স্থানীয় প্রতিনিধি
২১ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যা ১৮.৪৫ ঘটিকায় মহুয়া কমিউটারের যাত্রী গোপাল পাল (৪৬), পিতা ললিত চন্দ্র পাল, মাতা-বরদা রানী পাল, সাং-গাগলজুর চৌরাপাড়া, থানা-মোহনগঞ্জ, জেলা-নেত্রকোনা সপরিবারে ঢাকা যাওয়ার জন্য ময়মনসিংহ রেল স্টেশনে অপেক্ষায় থাকাকালে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে রেল স্টেশন এর ৫ম প্ল্যাটফর্মে গেলে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
উক্ত ঘটনায় ডিসিস্ট এর স্ত্রী জবা রানী বিশ্বাস(৪৬) বাদী হয়ে রেলওয়ে থানায় অভিযোগ করলে ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার মামলা নং-৪, তারিখ-২২/০২/২০২৪, ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড রুজু করা হয়।
মামলার মূল রহস্য উদঘাটন ও আসামী গ্রেফতারের নিমিত্তে পুলিশ সুপার, ময়মনসিংহ জেলা পুলিশকে নির্দেশনা দিলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ রায়হানুল ইসলাম (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত), ময়মনসিংহ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল), ময়মনসিংহ এবং অফিসার ইনচার্জ, কোতোয়ালী মডেল থানার সার্বিক তত্ত্বাবধানে পুলিশ পরিদর্শক মোঃ সহিদুল ইসলাম, পিপিএম উক্ত ঘটনার বিষয়ে বিবিধ তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেন। তথ্য প্রযুক্তি ও সোর্সের সহায়তায় ২৩/০২/২০২৪ তারিখ বিকাল অনুমান ১৫.০০ ঘটিকার সময় বিশ্বস্ত ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মামলার ঘটনার সাথে জড়িত অজ্ঞাতনামা আসামীর অবস্থান সম্পর্কে জানতে পেরে কোতোয়ালী মডেল থানাধীন ৫নং কালিবাড়ি রোডস্থ জনৈক আমিনুল হক শামীম এর পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে পুলিশ পরিদর্শক মোঃ সহিদুল ইসলাম,পিপিএম সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ আসামী মোহাম্মদ আলী(২৬), পিতা মোঃ বিল্লাল, সাং-কালিবাড়ী গুদারাঘাট, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহকে গ্রেফতার করেন।
জব্দকৃত আলামত:
হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ফোল্ডিং চাকু ৫ নং কালিবাড়ি রোডস্থ জনৈক আমিনুল হক শামীম এর পরিত্যক্ত বাড়ির ঝোঁপঝাড়ের ভিতর থেকে আসামীর দেখানো এবং সনাক্ত মতে উদ্ধার করা হয়।
আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গত ২১/০২/২০২৪ তারিখ সন্ধ্যা অনুমান ১৮.৪৫ ঘটিকায় ডিসিস্ট গোপাল পাল (৪৬), পিতা ললিত চন্দ্র পাল, মাতা-বরদা রানী পাল, সাং-গাগলজুর চৌরাপাড়া, থানা-মোহনগঞ্জ, জেলা-নেত্রকোনা ট্রেন ছাড়ার পূর্বে প্রশ্রাব করতে রেলস্টেশনের ৫নং রেললাইনে দন্ডায়মান বগির দক্ষিন পাশে ৬নং রেললাইন সংলগ্ন ফাঁকা স্থানে গেলে আসামী ডিসিস্টকে জাপটে ধরে তার কাছে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ডিসিস্ট তার কাছে থাকা ১৫,০০০/-(পনের হাজার) টাকা দিলেও মোবাইল ফোন দিতে বাধা প্রদান করে। মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য এক পর্যায়ে আসামী তার হাতে থাকা ফোল্ডিং চাকু দ্বারা ডিসিস্টের বুকে সজোরে আঘাত করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ডিসিস্ট গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় ০৩ নং প্ল্যাটফর্মে আসলে ডিসিস্টের স্ত্রী স্থানীয় লোকজন ও রেলওয়ে পুলিশের সহায়তায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।
ধৃত আসামীর বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র, ডাকাতির প্রস্তুতি এবং চুরিসহ সর্বমোট ৫ টি মামলা রয়েছে।
এ সংক্রান্তে ২৪ ফেব্রুয়ারী সকাল ১১:৩০ ঘটিকায়
পুলিশ সুপার এর কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে একটি প্রেসব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।
