মোঃ শিহাব উদ্দিন
গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের রঘুনাথপুর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। উপজেলার গুয়াধানা থেকে বেদগ্রাম পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ ও খোয়া উঠে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। এতে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংস্কারকাজ শুরু হলেও তা মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন আগে গুয়াধানা ব্রিজ থেকে গ্যান ডাক্তারের ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হয়। তবে অজ্ঞাত কারণে কাজের একটি অংশ সম্পন্ন হওয়ার পর হঠাৎ করেই তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে যান চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বেদগ্রাম রেলক্রসিং, টাবুরিয়া ঘাটা, রঘুনাথপুর উচ্চবিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকা এবং মন্ডল মার্কেটের সামনের অংশে সড়কের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব স্থানে পানি জমে থাকে। ফলে কোথায় গর্ত আর কোথায় সমতল রাস্তা, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন কর্মস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাজারে যেতে এই সড়ক ব্যবহার করেন হাজারো মানুষ। কিন্তু ভাঙাচোরা সড়কের কারণে যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় লাগছে। পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

রঘুনাথপুর এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, “অনেক বছর ধরে এই সড়কের দুর্ভোগ ভোগ করছি। রাস্তার কারণে প্রতিদিন কষ্ট করে চলাচল করতে হয়। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

স্থানীয় পরিবহনচালকেরা জানান, সড়কের বিভিন্ন স্থানে গভীর গর্ত থাকায় যানবাহনের যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে গেছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কটির অবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবগত থাকলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তারা দ্রুত সংস্কারকাজ পুনরায় শুরু করে টেকসইভাবে সড়কটি মেরামতের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর এবং সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

তাদের দাবি, আর কোনো দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটার আগেই গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি সংস্কার করে জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা হোক।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *