লুৎফর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার আম্মেদাবাদ ইউনিয়নের হারুঞ্জা শা পাড়ার মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে মেহেদী হাসান শাপলা। গ্রাম সূত্রে পাওয়া যায় মেহেদী হাসান একজন মাদক সেবনকারী । তার স্ত্রী মাছুদা বেগমের কাছে প্রায় প্রায় যৌতুকের টাকা দাবী করে। টাকা না পাওয়ার জন্য স্ত্রী মাসুদা বেগমের উপর চলে নির্যাতন আর মারপিট। এ ব্যাপারে তাকে কেহ বাধা দিলে মেহেদী হাসান শাপলা বাধা দানকারীর বাড়ীর আঙ্গিনায় আবার কখনো বাড়ীর দরজার সামনে তাকে মারার জন্য বড় চাকু হাতে নিয়ে বসে থাকতো। তারপর থেকে জীবনের ভয়ে পাড়ার কোন লোকজন তাকে কিছু বলেন না এবং তার বাড়িতেও কেউ যান না।উক্ত হারুন্জা শাহ্পাড়া থেকে জানা যায় ৭ই আগস্ট (২০২৬) শুক্রবার স্ত্রী মাসুদা বেগমকে অমানুষিকভাবে ঘরের মধ্যে যেভাবে অমানুষিক নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে তা শুনলে হয়তো সারা শরীরের লোম এমনিতে শিহরে উঠবে। নিম্নে বর্ণনা স্বামী মেহেদী হাসান শাপলা ঘরের মধ্যে স্ত্রীর হাত-পা রশি দিয়ে বেধে মুখের ভেতর গামছা দিয়ে মুখ বাধার পর আগুনে গরম করা লাল টকটকে লোহার রড দিয়ে স্ত্রী মাসুদা বেগমের সারা শরীরে ছেকা দেওয়া হয়েছে। কথা এখানেই শেষ নয় ছেকা দেওয়া দগ্ধ জায়গায় লবণ ও মরিচের গুড়া লেগে দিয়ে কষ্ট দেওয়া হয়েছে। ৮ ই আগস্ট শনিবার নির্যাতিতা মাছুদা বেগমকে স্থানীয় ক্ষেতলাল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান হয়। শারীরিক অবস্থা অবনতি হওয়ায় ক্ষেতলাল হাসপাতাল থেকে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থা গুরুতর অবনতি হওয়ায় জয়পুরহাট সদর আধুনিক হাসপাতাল থেকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে ২১ শে আগস্ট শনিবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫ টায় নির্যাতিত মাসুদা বেগমের মৃত্যু হয়।এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী এমন পাষাণ নির্মম নির্যাতনকারী মেহেদী হাসান শাপলার ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন। ২১ শে আগস্ট শনিবার গ্রামবাসী হত্যাকারী মেহেদী হাসান শাপলাকে আটক করে কালাই থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলামকে খবর দিলে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী (পুলিশকে) কে পাঠিয়ে দেন তারা হত্যাকারী মেহেদী হাসানকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। ভিকটিমকে যৌতুকের টাকার জন্য নির্যাতন মারপিট করায় ১৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ভিকটিমের সহোদর ভাই বশির উদ্দিন বাদী হয়ে জয়পুরহাট বিজ্ঞ আদালতে মামলার দায়ের করেন। এ বিষয়ে কালাই থানা মামলা নম্বর ২১, ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১ ক ক/৪(২)খ ধারা মামলা রুজু করা হয়।মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর তদন্ত শ্রী দ্বীপেন্দ্রনাথ সিংহ। থানা সূত্রে আরো জানা যায় উক্ত মেহেদী হাসান শাপলার বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যা মামলা দায়ের করার প্রক্রিয়াধীন চলছে।
