লুৎফর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার জিন্দা পুর ইউনিয়নের বাখর বেলগড়িয়া গ্রামের মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম( ৪৫) তার ছেলে সবুজের স্ত্রী সুফিয়া খাতুনের পরকিয়ার কারণে জীবন দিতে হয়েছে শশুর জাহাঙ্গীর আলমকে। উক্ত সবুজের স্ত্রী, পারিবারিক ও গ্রাম সূত্রে তথ্য জানা গেছে উল্লেখিত জাহাঙ্গীর আলম ও তার ছেলে সবুজ কোদাল, বালতি হাতে নিয়ে ৪ জানুয়ারি ২০২৫ শনিবার আনুমানিক সাড়ে ১১ টায় একই গ্রামের প্রতিবেশী নুরুজ্জামান (জামাল) এর ছেলে আইসান নবী (৪২) এর বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ের ধার দিয়ে তারা কোদাল, বালতি হাতে নিয়ে জমির আলুর খেতে যাবার পথে সবুজের স্ত্রীর পরকিয়া বিষয়ে আইসান নবী, পিতা পুত্র জাহাঙ্গীর আলম ও সবুজের সাথে অকাথ্য ভাষায় ঝগড়ার এক পর্যায়ে আইসন নবীর স্ত্রী আখি বেগম পেছন থেকে গিয়ে ২ হাতে জাহাঙ্গীর আলমকে ঝাপটে ধরলে তার স্বামী আহসান নবী জাহাঙ্গীর আলমের হাতে থাকা কোদাল কেড়ে নিয়ে ডান কাঁধের উপরে আঘাত করার সাথে সাথে জাহাঙ্গীর আলম মাটিতে পড়ে যায়। এরপর তার বুকের উপরে আইসন নবী তার পা দিয়ে বেশ কয়েকটা গুরি মারার ফলে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে স্থানীয়রা চিকিৎসার জন্য কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেয়ার পথে মোলাম গাড়ি বাজারে তার মৃত্যু হয়। উক্ত সবুজের স্ত্রী সুফিয়ার খাতুন এর কাছ থেকে এবং তার পরিবার ও গ্রাম সূত্রে জানা যায় সুফিয়া খাতুনের দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী সাইদুল ইসলামের ছেলে সামিদুল ইসলাম( ৩৪) এর সাথে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া প্রেম-ভালোবাসা চলছিল। এ কথাগুলো সামিদুল ইসলাম প্রতিবেশী আইসান নবীকে জানানোর পর আইসান নবী উল্লেখিত সবুজের স্ত্রী সুফিয়া খাতুনে কাছে প্রেম-ভালোবাসার প্রস্তাব দেওয়ার সাথে সাথে প্রত্যাখ্যান হয় । এরপর থেকে আইসান নবী রাতের বেলায় সুফিয়া খাতুনের জানালায় গিয়ে বিভিন্ন প্রকারের হুমকি ভয় ভীতির শুনায়ে আসতেন এবং দিনের বেলায় রাস্তায় বের হলে বিভিন্ন রকমের কথা বলে তাকে উত্তপ্ত করতেন। উক্ত সুফিয়া খাতুন প্রেম পিরীতে রাজি না হওয়ায় সে কারণে রাগে এবং ক্ষোভে জাহাঙ্গীর আলমকে জীবন দিতে হল । মৃত্যুর খবর পাওয়া মাত্র কালাই থানা অফিসার ইনচার্জ ( ওসি ) জাহিদ হোসেন তার সঙ্গীও ফোর্সকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পর লাশটি থানায় এনে জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠিয়ে দেন। এ খবরটি থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি ) এর কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি আরো জানান হত্যার ব্যাপারে থানায় মামলা রুজু করার প্রক্রিয়াধীন চলছে। বিকালে জয়পুরহাট সার্কেল পুলিশ সুপার জনাব আরিফ হোসেন বাখরা বেল গড়িয়া গ্রমে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে থানায় আসেন।
