অতি প্রাচীনতম ঐতিহাসিক স্থান খুলনা জেলা পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনিতে মহাবারুণী স্নান উৎসবকে ঘিরে মহাবারুণী মেলা অনুষ্ঠিত হবে। মধুকৃষ্ণা তেরদশীতে কপিলেশ্বরী কালী ঘাটে স্নান উৎসব অনুষ্ঠিত হলেও মূলত মহাবারুণী মেলার পসরা বসবে ঈদুল ফিতরের পরের দিন থেকে। ইতোমধ্যে মেলার অনুমতিসহ নানা বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সুধী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেলা উদযাপন কমিটির পাশাপাশি রঙ্গীন নাট্য মঞ্চ সাজাতে উপ-কমিটি করা হয়েছে।
এবারে মেলায় এমপি রশীদুজ্জামানকে প্রধান পৃষ্ঠপোষক, কপিলমুনি কপিলেশ্বরী কালী মন্দিরের সভাপতি চম্পক কুমার পালকে সভাপতি, কপিলমুনি ইউপি চেয়ারম্যান কওছার আলী জোয়ার্দ্দারকে সদস্য সচিব ও কপিলমুনি পুলিশিং কমিটির সভাপতি সাধন কুমার ভদ্রকে কোষাধক্ষ্য করে ৯ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরী কমিটি, ২১ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদ ও ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট মেলা উদযাপন কমিটি করা হয়েছে। মেলার সার্বিক পরিচালনায় রয়েছেন, কপিলমুনি কেকে এসপির সাধারণ সম্পাদক এম বুলবুল আহমেদ ও বণিক সমিতির সদস্য সচিব এম মাহমুদ আসলাম।
এছাড়াও রয়েছেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক আনন্দ মোহন বিশ্বাস, শেখ বজলুর রহমান, শেখ ইকবাল হোসেন খোকন ও শেখ বেনজীর আহমেদ বাচ্চুসহ ২১ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদ ও ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট মেলা উদযাপন কমিটি। এবারের আয়োজন মেলায় থাকছে, উন্মক্ত মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সার্কাস, যাদু প্রদর্শনী, পুতুল নাচ ও সামাজিক যাত্রা অনুষ্ঠান।
এ ব্যাপারে মাহমুদ আসলাম বলেন, এবারের মেলায়, প্রতিকূল পরিবেশ অনুকূলে থাকলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধুর কপিলমুনিতে অনুষ্ঠিত মেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গণের আলো ছড়াবে দেশব্যাপী। আর এ মহাবারুণী স্নান ও মেলার মাধ্যমে দক্ষিণ খুলনার কপিলমুনি ফিরে পাবে তার পুরাতন ঐতিহ্য।
উপরোক্ত মহাবারুণী মেলা বিষয়ে, মেলা কমিটির সভাপতি চম্পক পাল ও কোষাধক্ষ্য সাধন কুমার ভদ্র বলেন, আধুনিক কপিলমুনির রুপকার স্বর্গীয় রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধুর একান্ত চেষ্টা ও অকৃত্রিম ভালবাসা দিয়ে অতি সুনিপুন ভাবে বাংলা ১৩৩৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন এই বাজারটি। তাই তারই নামানুসারে নামকরণ হয় বিনোদগঞ্জ। যেটি এখন কপিলমুনি নামে পরিচিত। কিন্তু পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনির এই মহাবারুণী মেলার জাতীয় স্বীকৃতি নেই। এলাকাবাসীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মহানুভবতার দৃষ্টিতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
