মোক্তার হোসেন গোলাপ

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার দলাই গ্রামের জেলে সাইদুর রহমান (২৮) হত্যাকাণ্ডের জড়িতদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত বিচার কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন নিহতর পরিবার। এই ঘটনার পরপরই পুলিশ তৎপর হয়ে জড়িত এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। অন্য আসামিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে নিহত সাইদুর রহমানের বিধবা মা মোছাম্মৎ সামছুন্নেহারকে।
নিহত সাইদুর রহমান উপজেলার গোপদিঘী ইউনিয়নের ধলাই গ্রামের মৃত ফুল মিয়ার ছেলে।

জানা গেছে , ২৭ মে রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে গোপদিঘী ইউনিয়নের ধলাই গ্রামের সাইদুর রহমান তার দুই ভাই সাইদুর ও আনিসুর রহমানকে নিয়ে মুশুরিয়াগ্রামের ডেওয়ারখালির হাওরের বকুল মিয়ার জমিতে মাছ শিকার করতে যান। পূর্ব থেকেই মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। কিন্তু তারপরও সাইদুর রহমান ও তার ভাইয়েরা রিং জাল দিয়ে মাছ ধরতে যান সেখানে। ঐ সময় মোঃ নওয়াব আলী( ৫২), রাজন মিয়া (৩৭),সিয়াম মিয়া( ১৯) ও শাহিন মিয়া (৩৭)সহ আরো ৭/৮ ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জেলে পরিবারের ৩ ভাইয়ের উপর হামলা চালায়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে , হামলাকারীরা দুই ভাই আনিসুর রহমান ও আতাবুর রহমানকে মারধর করলেও বড় ভাই সাইদু রহমানকে হাত পা বেঁধে পানিতে ফেলে বল্লম দিয়ে আঘাত করে। এতে তিনি পানিতে তলিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক থাকে মৃত ঘোষণা করেন।এ ব্যাপারে গত ২৮ মে নিহত সাইদুর রহমানের বিধবা মা মোছাম্মৎ সামছুন্নেহার বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন । মিঠামইন থানার মামলা নাম্বার ২১।
মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লিয়াকত আলী জেলে সাইদুর রহমানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তিনি এ ঘটনার পরপরই তৎপর হয়ে নওয়াব আলী(৫০)কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। অন্যান্য আসামিদেরকে ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে পুলিশের ওসি লিয়াকত আলী প্রতিবেদককে জানান।
এদিকে বাদী সামছুন্নেহারকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি ধামকি দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন নিহত পরিবারের লোকজন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে নিহত সাইদুর রহমানের পরিবার একেবারে নিঃস্ব। এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে সাইদুর রহমান দুই ভাইকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে মাছ শিকার করে কোনরকম সংসার চালাতেন। তার স্ত্রী কর্মী আক্তার এর প্রতিবেদককে জানান তার স্বামী প্রতিদিন মাছ শিকার করে বাড়িতে ফিরলেও সেদিন আর অক্ষত অবস্থায় বাড়িতে আসেননি । তিনি শুধু স্বামী হত্যার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি করে জড়িতদের ফাঁসির দাবি জানান। উর্মি আক্তার একমাত্র ১বছরের ছেলে আবির হাসানকে নিয়ে বিচারের দাবিতে এখানে সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। নিহত সাইদুর রহমানের মা সামছুন্নেহার, শাশুড়ি আঙ্গুরা, ছোট দুই ভাই সহ এলাকার লোকজন এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি জানিয়েছেন।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *