নিজস্ব প্রতিবেদক
মিঠামইন
​কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে তরুণী কোহিনূরের নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী। নৌকায় ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে হাত-পা বেঁধে নদীতে ফেলে দিয়ে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে ইতোমধ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এই ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন সর্বস্তরের সচেতন নাগরিক।
​ঘটনার বিবরণ ও জবানবন্দি
​তদন্ত ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, মামলার প্রধান সন্দেহভাজন আসামি ইতোমধ্যে এই জঘন্য অপরাধের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। আসামির জবানবন্দি অনুযায়ী, কোহিনূরকে প্রথমে নৌকায় করে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে প্রধান আসামি এবং তার আরও দুই সহযোগী মিলে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
​নির্যাতনের একপর্যায়ে মেয়েটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে, আসামিরা চরম অমানবিকতার পরিচয় দেয়। তারা কুহিনূরের হাত-পা বেঁধে জীবন্ত ও অচেতন অবস্থায় নদীতে ফেলে দিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে।
​মায়ের আকুতি ও কোহিনূরের স্মৃতি
​নিখোঁজ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া এই তরুণীর মা একটি ছবি (সংযুক্ত ছবি দেখিয়ে দাবি করেছেন, এটিই তার আদরের মেয়ে কুহিনূর। ছবিতে হিজাব পরিহিত এবং হালকা নীল রঙের জ্যাকেট পরা হাস্যোজ্জ্বল এই তরুণীর অকাল প্রস্থান পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে। কুহিনূরের এই চলে যাওয়া একটি পরিবারের স্বপ্ন ও হাসিকে চিরতরে নিভিয়ে দিয়েছে। একজন মায়ের বুক খালি হয়েছে, আর একজন ভাই হারিয়েছে তার বোনকে।
​সচেতন নাগরিকদের প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ
​এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মিঠামইনের সচেতন নাগরিকরা বলছেন, এই অপরাধ শুধু একজন নারীর ওপর নির্যাতন নয়, বরং এটি পুরো মিঠামইনের জন্য একটি বড় কলঙ্ক।
​এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে:
​”আজ যদি আমরা নীরব থাকি এবং এই অন্যায়ের সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হই, তাহলে ভবিষ্যতে সমাজবিরোধী ও মানবতার মুখোশ পরা এই অমানুষদের আরও ভয়ংকর অপরাধ করার সাহস বেড়ে যাবে। আমাদের সবার ঘরেই মা-বোন ও কন্যাসন্তান রয়েছে। তাই এই বিচার শুধু কুহিনূরের পরিবারের জন্য নয়, আমাদের নিজেদের এবং আগামী প্রজন্মের নিরাপত্তার জন্যও অত্যন্ত জরুরি।”
​দাবি ও আহ্বান
​মিঠামইনের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আন্দোলনকারীরা বলছেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে আওয়াজ তুলতে হবে। যতক্ষণ না পর্যন্ত এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত মূল হোতা ও তার সহযোগীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ন্যায়বিচারের এই লড়াই ও প্রতিবাদ জারি থাকবে।
​এলাকাবাসী ও সচেতন সমাজ অবিলম্বে প্রশাসনের কাছে এই মামলার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি এবং দোষীদের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *