বিশেষ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মমেকহা) সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আবারও বাড়ছে। রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে রোগী ও স্বজনদের অতিরিক্ত ভিড় এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অব্যবস্থাপনার চিত্র দেখা গেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৭ অক্টোবর সকালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ১৬১ জন। রাত ৮টা পর্যন্ত সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী হাসপাতালে ১৫৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন। এক সপ্তাহ আগে যেখানে দৈনিক গড়ে প্রায় ১২০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন, সেখানে গত তিন দিনে রোগীর সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে রোগীর চাপও বেড়েছে।
দুপুর ১টার দিকে হাসপাতালের পরিচালক ডেঙ্গু ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি রোগী ও তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিদর্শনকালে ওয়ার্ডের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অতিরিক্ত রোগীর চাপের পাশাপাশি একজন রোগীর সঙ্গে একজন স্বজন থাকার নিয়ম থাকলেও অনেক রোগীর সঙ্গে তিন থেকে চারজন করে স্বজন অবস্থান করছেন। এতে ওয়ার্ডে অতিরিক্ত ভিড় সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে খাবারের উচ্ছিষ্টসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য যত্রতত্র ফেলার প্রবণতাও বাড়ছে। এ বিষয়ে রোগীর স্বজনদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, ডেঙ্গু ওয়ার্ডে থাকা একটি বর্জ্যের ঝুড়ি উপচে পড়ে ময়লা স্তূপাকারে জমে আছে। ওয়ার্ডের ভেতর ও বাইরে রোগী ও স্বজনদের উল্লেখযোগ্য ভিড় রয়েছে। অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতির পাশাপাশি খাবারের উচ্ছিষ্ট ও বিভিন্ন ধরনের বর্জ্যও যত্রতত্র পড়ে থাকতে দেখা যায়। হাসপাতাল প্রশাসনের নজরের মধ্যেই ডাব ও বিভিন্ন ফলমূলের বর্জ্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে। এতে ওয়ার্ডের পরিবেশ নোংরা হওয়ার পাশাপাশি রোগী, স্বজন ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।
পুরো ডেঙ্গু ওয়ার্ডে রোগী ও স্বজনদের জন্য মাত্র দুটি টয়লেট রয়েছে, যা রোগীর সংখ্যা ও স্বজনদের তুলনায় অপ্রতুল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ছাড়া নার্সদের টেবিলে বিভিন্ন সার্জিক্যাল সরঞ্জাম থাকলেও সেখানে অ্যান্টিসেপটিক হ্যান্ড রাব বা হেক্সিসল দৃশ্যমান ছিল না। ডেঙ্গু রোগীদের রক্ত সংগ্রহ ও চিকিৎসাসংক্রান্ত কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম এবং হাত জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা যথাযথভাবে রয়েছে কি না—এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসাসেবা ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে চিকিৎসক ও রোগীর হাত জীবাণুমুক্ত রাখা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে অ্যান্টিসেপটিক ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে রয়েছে কি না, তা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আনা প্রয়োজন।
