ব্যাকের কর্মকর্তা সেজে ফোন কলের মাধ্যমে ব্যাংকের কার্ড ব্যবহারকারীদের একাউন্ট হ্যাক করে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে আসছিল একটি প্রতারক চক্র।
সাইবার পুলিশ সেন্টারের ফেসবুক পেজে এরকম একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে ৬,৩০,০০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারণা চক্রের ২ সদস্যকে দিনাজপুর জেলা থেকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডির সাইবার ইন্টেলিজেন্স এন্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট টিম।
গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার কৌশল সম্পর্কে জানা যায় গ্রেফতারকৃতরা কমিউনিটি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ড ডিভিশনের কর্মকর্তা সেজে ভিসা এবং মাস্টার কার্ড ব্যবহারকারীদের নাম্বারে ফোন দিয়ে তথ্য হালনাগাদ, কার্ডের পিন নম্বর চার ডিজিটের পরিবর্তে ছয় ডিজিট ও ইমেইল আপডেট না করার কারণে কার্ডের কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে মর্মে জানায়। অনেক কার্ডধারীর অ্যাকাউন্টে বড় অংকের ব্যালেন্স থাকায় আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে প্রতারকদের কথা অনুযায়ী কাজ করতে থাকে।
এভাবে সংগৃহীত তথ্য থেকে ১৬ ডিজিটের কার্ডের নম্বর, কার্ডের মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ, কার্ডের বিপরীত পাশে উলিস্নখিত ৩ ডিজিটের (সিকিউরিটি পিন নম্বর) সিভিভি নম্বর সংরক্ষণ করে। পরবর্তীতে গ্রাহকদের কাছে ওটিপি (OTP) কোড পাঠায়। কৌশলে পাঠানো ওটিপি (OTP) কোড সংগ্রহ করে বিকাশ অ্যাপে ঢুকে অ্যাড মানি’ অপশনের কার্ড টু বিকাশের মাধ্যমে টাকা আত্নসাত করে নেয় তারা। এই প্রক্রিয়ায় গ্রেফতারকৃত ২ জন গত ৩ মাসে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের রমনা মডেল (ডিএমপি) থানায় দায়ের করা একটি মামলায় বিজ্ঞ আদালত প্রেরণ করা হয়েছে।
ব্যাংকের কার্ড এবং এমএফএস (বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায় ইত্যাদি) ব্যবহারকারিরা যে সকল বিষয়ে সতর্ক থাকবেন ঃ
১। ব্যাংকের কার্ড নাম্বার, মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ, নিরাপত্তা পিন নাম্বার, ওটিপি (OTP) কোড ইত্যাদি গুরম্নত্বপূর্ণ তথ্য কখনোই কারো সঙ্গে এমনকি সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও কখনোই শেয়ার করা উচিত নয়।
২। ব্যাংক কিংবা বিকাশ, নগদ ও অন্যান্য এমএফএস কোম্পানি কখনোই আপনার কাছে ওটিপি (OTP) চাইবে না।
৩। লটারি জেতা, উপবৃত্তির টাকা বা সরাকরের কোন অনুদানের জন্য কখনোই আপনাকে কেউ ফোন করে টাকা চাইবে না এমন কল আসলে তাদের সাথে লেনদেনে বিরত থাকুন।
৪। যে কোন ধরনের কার্যক্রমে কারো সাথে ওটিপি (OTP) অর্থ্যাৎ আপনার মোবাইল ফোনের মেসেজে আসা কোড, অন্য কারো সাথে শেয়ার করা হতে বিরত থাকুন।
৫। নিজে না বুঝলে যারা বুঝে তাদের সহায়তা নিন।
৬। এর পরেও যদি আপনি প্রতারিত হন অতি দ্রুত নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করুন।
