নিজস্ব প্রতিবেদক
জামালপুর শহরের বজ্রাপুর হাজীপাড়ায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে নিরীহ মা-মেয়েকে পিটিয়ে হাড়গোড় ভেঙ্গে বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এ নিয়ে থানায় অভিযোগ করলেও প্রভাবশালী সন্ত্রাসীদের চাপে মামলা নেয়নি পুলিশ। এমনটাই অভিযোগ করেছে বজ্রাপুর হাজীপাড়া নিবাসী মৃত হাছেন আলীর স্ত্রী বৃদ্ধা বিধবা মোছাঃ ফিরোজা বেগম ও তার মেয়ে আনন্দ।
তারা আরও অভিযোগ করেন, গত ৫ আগষ্ট সরকার পতনের পর শহরজুড়ে নৈরাজ্যের অংশ হিসেবে গোলাম মোস্তফা টিক্কা ও তার নেতৃত্বাধীন একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে মৃত হাছেন আলীর ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাড়া করে। তাদের কবল থেকে বাঁচতে মোঃ ফিরোজ মিয়া পালিয়ে গেলে সন্ত্রাসীরা বিধবা বৃদ্ধা মোছাঃ ফিরোজা বেগম ও তার মেয়ে আনন্দকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে ঘরে তালা লাগিয়ে দেয়। এদিকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের পরও থানার কার্যক্রম না থাকায় তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারলেও তখন জাতীয় দৈনিক কালের কন্ঠসহ বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায় গত ১০ অক্টোবর তারিখে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে গত শুক্রবার দুপুরে মা-মেয়ে তাদের বাড়িঘরে ফিরলে গোলাম মোস্তফা টিক্কার নেতৃত্বে অন্যান্য সন্ত্রাসীরা ঐক্যবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে বৃদ্ধা বিধবা মোছাঃ ফিরোজা বেগম ও তার মেয়ে আনন্দকে বেধড়ক পিটিয়ে হাড়গোড় ভেঙ্গে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। এদিকে এ বিষয়ে জামালপুর থানায় বজ্রাপুর হাজীপাড়া গ্রামের মৃত হযরত আলীর ছেলে গোলাম মোস্তফা টিক্কা, ডাকপাড়া গ্রামের সালামের ছেলে মোঃ বিপ্লব, মৃত হযরত আলীর ছেলে মোঃ ভুট্টু, মোঃ মুকুল, মৃত হোসোন আলীর ছেলে মোজাম্মেল, বাগদিপাড়া গ্রামের মৃত দুলালের ছেলে মোঃ রনি (গুড্ডু), মুকুলের ছেলে নিলয়, ভুট্টুর ছেলে সেতু, গোলাম মোস্তফা টিক্কার স্ত্রী বিউটি, ভুট্টুর স্ত্রী নাছিমা, গোলাম মোস্তফা টিক্কার মেয়ে সিনথিয়া, রাবিকুলের স্ত্রী মোছাঃ নিপা, গোলাম মোস্তফা টিক্কার মেয়ে সারিকা, গেন্দার ছেলে অপুসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২জনকে আসামী করে অভিযোগ দিলেও প্রভাবশালী এক নেতার নগ্ন হস্তক্ষেপে মামলা আমলে নেয়নি পুলিশ। এমনটাই অভিযোগ সন্ত্রাসী হামলার শিকার মা ও মেয়ের। অপরদিকে এ হামলার ঘটনায় বজ্রাপুর হাজীপাড়ায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। জনমনে প্রভাবশালী ওই নেতার বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় উঠেছে এবং আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *