নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনা সদর উপজেলার ঠাকুরাকোনা ইউনিয়নের বাড়ইডহর গ্রামে বসতঘর জোরপূর্বক দখলের চেষ্টায় বাধা দেওয়ায় জ্যোৎস্না রানী পন্ডিত (৬৫) নামের এক অসহায় বৃদ্ধাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি নেত্রকোনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনায় তাঁর ছেলে রাজন পন্ডিতকেও বেদম মারধর করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ অক্টোবর (শুক্রবার) রাত আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে বাড়ইডহর গ্রামে এ বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিনের বসতভিটা দখলের উদ্দেশ্যে একই গ্রামের রাখাল পন্ডিতের ছেলে সুব্রত পন্ডিত ও পাপুল পন্ডিত সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে বৃদ্ধা জ্যোৎস্না রানীর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
স্বজনরা জানান, হামলায় বৃদ্ধার মাথায় গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়, যেখানে চিকিৎসকদের পাঁচটি সেলাই দিতে হয়েছে। এ ছাড়া ধারালো অস্ত্রের কোপে তাঁর ডান হাত ঘাড় থেকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পঙ্গু হওয়ার উপক্রম হয়েছে। মাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে ছেলে রাজন পন্ডিতকেও পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক নীলাফোলা জখম করে দখলদারেরা।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে বাদী রাজন পন্ডিত বলেন, “ভূমিদস্যু সুব্রত পন্ডিত, পাপুল পন্ডিত ও রাখাল পন্ডিত দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বসতঘর দখলের পাঁয়তারা করছে। তারা আগেও আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। ঘটনার রাতে বাধা দিলে তারা আমার মাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম করে। এমনকি ঘটনাটি নিয়ে থানায় অভিযোগ দিতে যাওয়ার পথেও আমাদের বাঁধা দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিনিয়ত প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”
ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় শতাধিক এলাকাবাসী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সুব্রত পন্ডিত ও পাপুল পন্ডিতের সাথে সরেজমিনে ও মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।
হাসপাতালের শয্যায় কাতরানো বৃদ্ধা জ্যোৎস্না রানী পন্ডিত আতঙ্কিত কণ্ঠে বলেন, “আমি ও আমার সন্তান চরম প্রাণনাশের হুমকিতে আছি। যেকোনো সময় তারা আমাদের শেষ করে দিতে পারে। আমি আমার মাথা গোঁজার শেষ সম্বল বসতঘরটি রক্ষা করতে চাই এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই বর্বরোচিত হামলার ন্যায়বিচার কামনা করছি।”
এ বিষয়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ ও অসহায় পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
