স্থানীয় প্রতিনিধি
নারী খেলোয়াড়কে ধর্ষণের মামলায় জুজুৎসু অ্যাসোসিয়শনের সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম নিউটন ও তার সহযোগী এক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে ঢাকার মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসিম রোববার তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
নিউটন ও তার সহযোগী সুমাইয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের হেফাজতে চেয়ে আবেদন করে পুলিশ। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলের আবেদনের পাশাপাশি জামিন চান।
শুনানি নিয়ে বিচারক তাদের জামিন আবেদন বাতিল করে একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে জানান সংশ্লিষ্ট আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এস আই উত্তম বিশ্বাস।
তিনি বলেন, “কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন আসামিরা। তারা বলেন, ‘আমরা নির্দোষ, ষড়যন্ত্রের শিকার মাত্র’।”
জুজুৎসুর এক নারী খেলোয়াড়কে ধর্ষণের অভিযোগে গত ১৪ মে শেরে বাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করা হয় নিউটনের বিরুদ্ধে। এ থানার এসআই শাকিল জোয়ার্দার মামলাটি তদন্ত করছেন।
মামলার তিন দিন পর ৬৫ বছর বয়সী নিউটন ও তার সহযোগী সুমাইয়াকে ঢাকার মিরপুর ও শাহআলী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
পরে কারওয়ান বাজারে সংবাদ সম্মেলনে র্যাব জানায়, খেলোয়াড়দের ভালো অবস্থানে নিয়ে যাওয়া এবং বিদেশ ভ্রমণের কথা বলে তাদের ধর্ষণ করে আসছিলেন নিউটন।
র্যাবের ভাষ্য, ধর্ষণের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সেগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নিউটন একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এসব কাজে তাকে সহযোগিতা করেন সুমাইয়া। পরে নারী-শিশু নির্যাতন দমন ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন এক ভুক্তভোগী।
মামলার এজাহারে বলা হয়, বাদী দুই বছর ধরে নিউটনের কাছে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসছিলেন। অনুশীলনের সময় তাকে বিভ্ন্নিভাবে শারীরিক হেনস্তা করা হয়। অনুশীলন শেষে পোশাক পরিবর্তন করতে গেলে গ্রেপ্তার সুমাইয়া তাকে আটকে রেখে নিউটনকে ডেকে আনেন। সেখানে ওই খেলোয়াড়কে ধর্ষণ করেন নিউটন।
এছাড়া ধর্ষণের ভিডিও ও ছবি ধারণ করে সেগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে রাজধানীর একটি ফ্ল্যাটে বাদীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে এজাহারে বলা হয়।
