মোঃ মিঠু মিয়া
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার আমবাগানসহ ধাপেরহাট নামক এলাকায় গড়ে উঠেছে বেশ কিছু গুঁড়া হলুদ তৈরী কারখানা। এসব কারখানায় ক্ষেতের হলুদের সঙ্গে ইট ও ধানের গুড়াসহ রং মিশিয়ে মেশিনে তৈরী করা হচ্ছে গুঁড়া হলুদ। এই হলুদগুলো প্যাকেট করে পাইকারী দামে বাজারজাতে মেতে ওঠেছে বিশাল একটি চক্র। তারা ভেজাল গুঁড়া হলুদ বিক্রি করে হঠাৎ করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বুনেছে বলে একাধিক সুত্রে জানা গেছে।
জানা যায়, ওই উপজেলার হলুদ চাষখ্যাত এলাকা হচ্ছে ধাপেরহাট ইউনিয়ন। এ অঞ্চলের এমন কোন কৃষক নেই যিনি হলুদ আবাদ করেন না। এখানকার প্রায় প্রত্যেক কৃষক যুগযুগ ধরে হলুদ আবাদ করে আসছেন। এর ফলে সরকারি প্রকল্প থেকে হলুদ পল্লী এলাকা হিসেবেও নামকরণ করা হয়েছে। এরই সুযোগে আমবাগান ও ধাপেরহাটসহ আশপাশ এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠেছে গুঁড়া হলুদ কারখানা। এ কারখানাগুলোতে ইটের গুঁড়া, ধানের কুড়া ও রংসহ বিভিন্ন ক্ষতিকারক উপকরণ দিয়ে মেশিনে তৈরী করে চলেছে ভেজাল গুঁড়া হলুদ উৎপাদনের মহোৎসব।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান,ভেজাল হলুদ কারখানার মালিকরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সাথে যোগসাজশ করে নির্বিকারে চালিয়ে যাচ্ছে ভেজাল গুঁড়া হলুদের ব্যবসা। এরই ধাবাহিকতায় বুধবার বিকেলে ধাপেরহাটস্থ প্রস্তুতকারক ও মোড়কজাতকারী প্রতিষ্ঠান সাদিয়া ফুড প্রোডাক্টসে অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। এসময় ভেজাল গুঁড়া হলুদ প্রস্তুত করার দায়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ কারখানার মালিক লাবলু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ভেজাল কারবার চালিয়ে আসছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
বিশেষজ্ঞরা জানান,ভেজাল গুঁড়া হলুদ খেয়ে শরীরে জটিল-কঠিন রোগ দেখা দিতে পারে। এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর গাইবান্ধার সহকারী পরিচালক আফসানা পারভীন বলেন, ভেজাল খাদ্যপণ্য প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ধাপেরহাটে গুঁড়া হলুদ তৈরী কারখানা সাদিয়া ফুড প্রোডাক্টসে অর্থদন্ড করা হয়।
সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষ, অবৈধ ভাবে গড়ে উঠা এ সব কারখানা জনস্বার্থে বন্ধে আইনী ব্যবস্থা নিবেন এটাই এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *