স্থানীয় প্রতিনিধি
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন আরিফা বেগম (২১) নামের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী। এসময় তার পেটে লাথিও মারা হয়। এতে রক্তক্ষরণ হলে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। পরে মৃত সন্তান প্রসব করেছেন ওই নারী।
শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে ওই নারীকে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরআগে বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের গোপালিয়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।
আরিফা বেগম গোপালিয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর মাতুব্বরের মেয়ে ও একই উপজেলার বাহিরদিয়া গ্রামের শওকত মোল্লার স্ত্রী।
ওই নারীর পরিবারের অভিযোগ, জমি মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেনে একটি পক্ষের লোকজনের হামলায় ইয়ার আলী (৫২) নামের এক মুদিদোকানি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) মারা যান। এরপর থেকে প্রতিপক্ষের লোকজন এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে মাঝেমধ্যেই ভাঙচুর ও লুটপাট চালাচ্ছে। এ ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার রাত ৯ টার দিকে অন্তঃসত্ত্বা আরিফা বেগমের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।
হামলাকারীদের বাধা দিতে গেলে আরিফার গলা টিপে ধরা হয় এবং পেটে লাথি মারা হয়। এতে প্রথমে রক্তক্ষরণ ও পরে মৃত বাচ্চা প্রসব করেন আরিফা। তারপরও রাতে আরিফাকে হাসপাতালে নিতে দেননি প্রতিপক্ষের লোকজন। শুক্রবার সকালে পাশের গ্রামের লোকজনের সহযোগিতায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত পক্ষের নেতা আইয়ুব মাতুব্বর বলেন, ওই নারীকে কোনো প্রকার মারধর বা নির্যাতন করা হয়নি। এরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের পক্ষের লোকজনকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। ওই নারীর এমনিতেই গর্ভপাত হয়েছে।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফায়েজুর রহমান বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
