উবায়দুল্লাহ রুমি
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় ফাঁকা চেক ও নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প জোরপূর্বক আদায়ের অভিযোগে দায়ের করা চেক উদ্ধার মামলার মাত্র ১২ দিনের মাথায় বাদির বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনার মামলা দায়েরের ঘটনা ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক শামীম হোসেন অভিযোগ করেছেন, পরিকল্পিতভাবে তাকে হয়রানি ও ব্যবসা দখলের উদ্দেশ্যেই এই পাল্টা মামলা করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শামীম হোসেন দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার গৌরীপুর উপজেলা প্রতিনিধি এবং সুষম পশুখাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘সাফিনা সাইলেজ’-এর স্বত্বাধিকারী। তিনি জানান, গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে ডা. আমান উল্লাহ তাকে গৌরীপুরের ‘রন্ধন কাব্য’ রেস্টুরেন্টে ডেকে নেন। সেখানে তাকে আটকে রেখে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ৩০০ টাকার একটি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প এবং গৌরীপুর রূপালী ব্যাংক লিমিটেড উপশাখার হিসাব নম্বর ০৮৪৪০২০০০২০৮১-এর একটি চেকে স্বাক্ষর আদায় করা হয়। একই সঙ্গে তার নামে ক্রয়কৃত হোন্ডা হর্নেট ভার্সন ২.০ মোটরসাইকেল জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনার পর ৫ ফেব্রুয়ারি শামীম হোসেন গৌরীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। পরবর্তীতে ১৩ ফেব্রুয়ারি তিনি ময়মনসিংহ বিজ্ঞ আদালতের গৌরীপুর নির্বাহী আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৮ ধারায় ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্প উদ্ধারের মামলা দায়ের করেন। মামলাটির নম্বর ১৪৩/২৫।
চেক উদ্ধার মামলার ১২ দিন পর, অর্থাৎ ২৪ ফেব্রুয়ারি ডা. আমান উল্লাহ বাদির বাড়িতে গিয়ে ‘সাফিনা সাইলেজ’ নামীয় একটি চেক প্রদান করেন বলে ডিজঅনার মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়। ওই চেকটি ২৫ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকে উপস্থাপন করলে ডিজঅনার হয় এবং ২৭ ফেব্রুয়ারি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। পরে ২২ এপ্রিল ময়মনসিংহ জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪, গৌরীপুরে সি আর নং ২৯০/২৫ মামলা দায়ের করা হয়।
শামীম হোসেন আরও অভিযোগ করেন, তাকে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী প্রমাণ করতে গত ১০ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় এবং স্থানীয় অনলাইন পোর্টালে বিবাদীপক্ষের বক্তব্য প্রচার করা হয়। তবে তিনি দাবি করেন, ২০২২ সাল থেকে জুন ২০২৫ পর্যন্ত তিনি ‘সাফিনা সাইলেজ’-এর বৈধ প্রোপাইটর। তার নামে বৈধ ট্রেড লাইসেন্স, বিদ্যুৎ সংযোগ, ২০২৪–২৫ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন, ট্রেডমার্ক, লিজ চুক্তি রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, গৌরীপুর শাখা থেকে প্রতিষ্ঠানটির নামে পাঁচ লাখ টাকার একটি ঋণ চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, ব্যবসায় শেয়ার দেওয়ার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ডা. আমান উল্লাহ তার বিরুদ্ধে একের পর এক হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড চালান এবং শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি দখল করে নেন।
এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় সাংবাদিক হুমায়ন কবির সুমন জানান, ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে ‘রন্ধন কাব্য’ রেস্টুরেন্টে শামীম হোসেনের কাছ থেকে চেক ও নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং মোটরসাইকেল নেওয়ার সময় ভিডিও ধারণের অনুরোধ করলে তিনি ভিডিও ধারণ করেন। তবে এর আগে বা পরে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।
অভিযোগের বিষয়ে ডা. আমান উল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ ছাড়া তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *