উবায়দুল্লাহ রুমি
ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি মো. হাসিম উদ্দিন ওরফে আবুল হাসেমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার দুপুরে উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযুক্ত হাসিম উদ্দিন ওরফে আবুল হাসেম ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের বগাপুতা গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ সুত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালে কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটির সদস্য মৃত সৈয়দ হোসাইন আহম্মদের নির্দেশে আল বদর আবুল হাসেমসহ ১৫/১৬জন সশস্ত্র রাজাকার সোহাগি বাজারে হামলা চালিয়ে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। এবং সরিষা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক তহসিলদার আ’লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধের সংগঠক ও সোহাগি মাদরাসার হিসাব রক্ষক বৃ-কাঠালিয়া গ্রামের মোঃ নূরুল হক ওরফে তারা মিয়ার বাড়ি আগুন দিয়ে পোড়াইয়া দেয়। এরপর দুপুরে আলীগ সমর্থক হিন্দু ব্যাবসায়ী গোপাল চন্দ্র করকে অপহরণ করে আঠারোবাড়ি পাকিস্থান আর্মি ক্যাম্পে আটক রাখিয়া অমানুষিক নির্যাতন করে গুলি করে হত্যার পর লাশ গুম করে।
সরিষা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক তহসিলদার আ’লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধের সংগঠক মোঃ নূরুল হক ওরফে তারা মিয়াকে গুম করে ময়মনসিংহ বড় মসজিদ রাজাকার ক্যাম্পে আটক রাখিয়া অমানুষিক নির্যাতন করে ব্রম্মপুত্র নদীর পাড়ে নিয়ে গুলি করে হত্যার পর লাশ নদীতে ভাসাইয়া দেয়।
এ পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা হয়। ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও লুটপাটসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। মামলায় ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার তদন্ত কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাছিনুর রহমানের নেতৃতে অভিযান চালিয়ে সোহাগি ইউনিয়নের নিজ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।
পরে রবিবার বিকেলে ময়মনসিংহ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পুলিশ সুপার মাসুম আহম্মেদ ভূঞার সভাপতিত্বে প্রেস ব্রিফিং শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *