সামদানি হোসেন বাপ্পি
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার কলাকান্দা গ্রামের মাহমুদা খাতুন(৪৫) এর পরিবারের লোকজন এবং বিবাদীরা ভাগিশরীক হওয়ায় তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ বসতবাড়ীর জমি নিয়ে দ্বন্দ চলে আসতেছিল। উক্ত দ্বন্দ নিরসনের লক্ষে ১৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০ টা থেকে ১১.৩০ পর্যন্ত স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে সালিস দরবার বসে। কিন্তু উক্ত সালিস দরবারে কোন সমাধান না হওয়ায় যার যার মতো সবাই বাড়ীতে চলে যায়। ঐদিন দুপুর অনুমান ১ টার সময় ভিকটিম মাহমুদা খাতুন(৪৫) তার বাড়ীর গোয়ালঘর পরিষ্কার করার সময় বিবাদী মাসুদ মিয়া, হাসান, আব্দুর রাজ্জাক, মামুনুর রশিদ, মিরাজ আলী, লিজা আক্তার, লাইলী আক্তার, আনোয়ারা ওরফে আঙ্গুরী বেগমরা হাতে কুড়াল, বাঁশের লঠি ও কাঠের শারক নিয়ে বাদীর গোয়ালঘরের সামনে এসে মাহমুদা খাতুন(৪৫) কে এলোপাথারী ভাবে মারপিঠ করতে থাকে। ভিকটিমের ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে তাদের সামনে বিবাদী মাসুদ মিয়া কুড়াল দিয়ে মাহমুদা খাতুন (৪৫) এর মাথার মাঝখানে কোপ মারিলে মাথায় প্রচন্ড রক্তক্ষরণ হয় এবং মাথা থেকে মগজ বের হয়ে আসে। ভিকটিমের মৃত্যু নিশ্চিত করার লক্ষে অন্যান্য বিবাদীরা এলোপাথারি আঘাত করে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। পরবর্তীতে, মাহমুদার স্বজন মাহমুদাকে মুমূর্ষ অবস্থায় মুক্তাগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভিকটিমকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। মাহমুদা খাতুন(৪৫)কে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভিকটিমকে মৃত ঘোষণা করেন। ভিকটিম মাহমুদা খাতুন(৪৫)কে হত্যার ঘটনায় ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানা এলাকাসহ সারাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মোঃ আফজাল হোসেন রনি (২৮), পিতা- আব্দুর রউফ, সাং-কলাকান্দা, থানা-মুক্তাগাছা, জেলা-ময়মনসিংহ ০৮(আট) জনকে এজাহারনামীয় আসামী করে ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। উক্ত ঘটনার পর থেকে আসামিরা তাদের নিজ বাড়ি ত্যাগ করে গা ঢাকা দিয়ে ছদ্মবেশে পলাতক ছিল।
বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে অধিনায়ক র্যাব-১৪, ময়মনসিংহ এর নির্দেশক্রমে র্যাব১৪, সদর ব্যাটালিয়নের অপারেশনস্ অফিসার উপ-পরিচালক মোঃ আনোয়ার হোসেন এর নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল ইং ১৯ ফেব্রুয়ারী রাত অনুমান ০৯ টায় ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা থানাধীন স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে হত্যা মামলার বিবাদী ১। হাসান (৩০), ২। মামুনুর রশিদ (২৮), উভয় পিতা- আব্দুর রাজ্জাক, সাং-কলাকান্দা, থানা-মুক্তাগাছা, জেলা-ময়মনসিংহ’দেরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। ধৃত আসামিদেরকে ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে র্যাবেত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
