সামদানি হোসেন বাপ্পি
২৯ মে ২০২৩ খ্রিঃ তারিখ গভীর রাতে ভালুকা থানাধীন জামিরদিয়া এলাকার বেলেজিং ইনভেস্টমেন্ট প্রজেক্ট নামক একটি ডেইরী ফার্মে ১০ টি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। এতদসংক্রান্তে ভালুকা মডেল থানার মামলা নং-৬৫, তারিখ-৩০/০৫/২০২৩ খ্রি, ধারা-৪৫৭/৩৮০ পেনাল কোড রুজু হয়। গরু চুরির সংবাদ পেয়ে দ্রুততার সাথে চোরাই গরু উদ্ধার ও জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য জেলা গোয়েন্দা শাখা, ময়মনসিংহ এর একটি চৌকস টিম নিযুক্ত করা হয়।ডিবি টিম ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে ৩১/০৫/২০২৩ তারিখ ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল থানাধীন কানারামপুর হতে গরুচোর দলের মূলহোতা মোঃ রাজীব হোসেন সবুজ (৩০)কে গ্রেফতার করে। সবুজের দেয়া তথ্য মতে কিশোরগঞ্জ জেলার সদর থানা এলাকা হতে ৩১/৫/২০২৩ তারিখ গভীর রাতে বেলেজিং ইনভেস্টমেন্ট প্রজেক্টের চুরি যাওয়া ০৭ টি গরু উদ্ধার এবং কাইয়ুম (৪২)কে গ্রেফতার করে। এই চক্রের সদস্য সবুজ ও কাইয়ুমকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, আসামি সবুজ ২০/০৫/২০২৩ তারিখ কিশোরগঞ্জ কারাগার হতে “গরু ভর্তি ট্রাক ডাকাতি মামলায়” জামিনে মুক্ত হয়েই গরুচোর চক্র গঠন করে।বিভিন্ন এলাকায় ছদ্দবেশে ডেইরী ফার্ম ঘুরে ঘুরে চুরির পরিকল্পনা চুড়ান্ত করে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৮/০৫/২০২৩ খ্রিঃ তারিখ রাত প্রায় ১১.৩০ ঘটিকায় সবুজের নেতৃত্বে ০৯ জন আন্তঃজেলা গরুচোর দুটি পিক-আপভ্যান এবং গৃহ ও দেয়াল ভাঙ্গার বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি-সরঞ্জামাদিসহ ভালুকা জামিরদিয়া এলাকায় আসে।চক্রেরসদস্যরা পিক-আপভ্যানসহ ঢাকা-ময়মসিংহ মহাসড়কে অবস্থান করে রাস্তাঘাট নির্জন হওয়ার অপেক্ষা করে। রাতের গভীরতায় রাস্তঘাট নির্জন হলে ২৯/৫/২০২৩ তারিখ রাত অনুমান ০২.৩০ ঘটিকায় বেলেজিং ইনভেস্টমেন্ট প্রজেক্টে গিয়ে প্রথমে দেয়াল ভেঙ্গে চোরদের প্রবেশ ও গরু নিয়ে বাহির হওয়ার পথ তৈরী করে। ডেইরী ফার্মে প্রবেশ করে ১০ টি গরু নিয়ে দুটি পিক-আপ ভ্যানে তুলে কিশোরগঞ্জ জেলার সদর থানা এলাকায় নিয়ে যায়। ডিবি,র অভিযান দল ধারাবাহিক সাহসী অভিযান পরিচালনা করে গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া এলাকা হতে গরু বহনে ব্যবহৃত ১টি পিক-আপ সহ মোঃ নাহিদ হোসেন (২৫)কে, ভালুকা মাস্টারবাড়ী এলাকা হতে দ্বীন ইসলাম (২৮)কে এবং জামালপুর ও বগুড়া জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে খাইরুল (২৩)কে ১টি পিক-আপসহ আটক করে। গ্রেফতারকৃত আসামি ১। মোঃ রাজিব হাসান সবুজ (৩০) এর বিরুদ্ধে ৫টি গরু চুরি এবং ১টি গরু ডাকাতি মামলা, ২। কাইয়ুম এর বিরুদ্ধে ০২টি গরুভর্তি ট্রাক ডাকাতি এবং ১টি গরু চুরি মামলা, ৩। নাহিদ এর বিরুদ্ধে ০২টি গরু চুরি ও ১টি মাদক মামলা, ৪। দ্বীন ইসলাম এর বিরুদ্ধে ১টি মাদক মামলা এবং ৫। খায়রুল এর বিরুদ্ধে ১টি গরু ডাকাতি ও ১টি মাদক মামলা রয়েছে। পলাতক অন্যান্য গরুচোরদের গ্রেফতার ও অবশিষ্ট চোরাই গরু উদ্ধারের জন্য একাধিক ডিবি টিম নিরলসভাবে অভিযান পরিচালনা করছে।
গ্রেফতারকৃত গরু চোর উদ্ধার ও আটকঃ-
১। মোঃ রাজিব হাসান সবুজ (৩০)
পিতা-আঃ মুন্নাছ
সাং-চর দিহুনদা নামাপাড়া,
থানা-করিমগঞ্জ, জেলা-কিশোরগঞ্জ। ৪। মোঃ দ্বীন ইসলাম (২৮),
পিতা-বিনত আলী,
সাং-বালিয়াচর,
থানা-হোসেনপুর,জেলা-কিশোরগঞ্জ। ১। ০৭টি চোরাই গরু।
২। আটক-চোরাই গরু বহনের কাজে ব্যবহৃত ০২টি পিক-আপভ্যান।
২। কাইয়ুম (৪২),
পিতা-জসিম উদ্দিন,
সাং-গাজীভিটা,
থানা-হালুয়াঘাট, জেলা-ময়মনসিংহ। ৫। মোঃ খাইরুল ইসলাম (২২),
পিতা- মোঃ করিম,
গ্রাম-বনগ্রাম,
থানা-দূর্গাপুর,
জেলা -নেত্রকোনা,
৩। মোঃ নাহিদ হোসেন (২৫),
পিতা-আলফাজ উদ্দিন,
সাং-সূর্য্যনারায়ণপুর,
থানা-কাপাসিয়া, জেলা-গাজীপুর।
