বারহাট্টা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি
জমির সীমানা নিয়ে বহুদিন ধরে দ্বন্দ্ব ছিল দুই হিন্দু পরিবারের। সেখানে মাতব্বর হিসেবে সমস্যা মেটাতে গিয়ে আসামী হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে পাঁচ মুসলিম মাতব্বর।
ঘটনাটি নেত্রকোণা বারহাট্টা উপজেলা চিরাম ইউনিয়নের নাওটানা গ্রামে ২২ এপ্রিল দিবাগত রাতে ঘটেছে। পরে ২৪ এপ্রিল বুধবার রাতে ৬ জন কে আসামী করে বারহাট্টা থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। এখানে ৫ জন আসামী কামালপুর গ্রামের একেই গোষ্ঠীর । তারা মাতব্বরি করতে গিয়ে আসামী হয়েছে। মামলা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নিজের জরাজীর্ণ ঘরে আগুন জ্বালিয়ে মামলা রেকর্ড করেছে ধীরেন্দ্র চন্দ্র দাস এমন অভিযোগ বিবাদী পক্ষের। তাদের বক্তব্য জরাজীর্ণ ঘরটি এখনও অক্ষত অবস্থায় রয়েছে।
লিখিত এজাহারে বাদী ধীরেন্দ্র চন্দ্র দাস নাও টানা গ্রামের সুনীল চন্দ্র দাসের ছেলে। সে বলে ২২ এপ্রিল দুপুরে আমাকে নিজের ধান ক্ষেতে মেশিন দিয়ে ধান কাঁটার সময় বিবাদীরা রড দিয়ে আঘাত করে। এবং রাতে আমার গ্রামের ঘরটিতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। ধীরেন্দ্র চন্দ্র দাসের ডান হাতের মধ্যাঙ্গুলীটিতে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায় তার পুরাতন জরাজীর্ণ ঘরটিতে কোন মানুষ বা গৃহপালিত পশু থাকে না।এমন কি কোন লাকরী বা খড়কুটাও পাওয়া যায় নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ঘরটির উপরে একধরনের কম্বল দিয়ে ছাউনি দেয়া আছে। এজাহারে ৪০০০০ টাকার ক্ষতি দেখালেও একটুকরো কম্বলপুড়া ব্যতীত আর কোন ক্ষতি হয়নি।
ধীরেন্দ্র চন্দ্র দাসের ছোট ভাই মিন্টু চন্দ্র দাস বলেন ২২ এপ্রিল সোমবার দিবাগত রাত (২৩ এপ্রিল) ২ ঘটিকায় ঘুম থেকে উঠে পাশের বাড়ির একজন গ্রাম পুলিশের চিৎকার শুণতে পাই। পরে দেখি আমার ভাইয়ের ঘরটিতে আগুন জ্বলছে। সবার সহযোগিতায় ঘরের পাশে থাকা মটরের পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
এই ঘরে কি কেউ বসবাস করে এমন প্রশ্নের জবাবে ধীরেন্দ্র চন্দ্র দাসের মা লক্ষ্মী রানী বলেন, না এই ঘরে কেউ বসবাস করে না।
আপনার ঝগড়ায় মুসলিমরা আসামী হল কেন, ফোনে এমন প্রশ্ন করলে প্রধান অভিযুক্ত কৃষ্ণ ধন বিশ্বাস (৬৫) বলেন ধীরেন্দ্র চন্দ্র দাসএর সাথে আমার কোন সমস্যা নেই। এই বছর আমি অনেক গুলো দলিল অন্য দলিল লেখককে দিয়ে করিয়েছি। এই জেদে দলিল লেখক ধীরেন্দ্র চন্দ্র দাস আমার সাথে এমন আচরণ করছে। আমি আঃ রব ফকিরকে মাতব্বর হিসেবে নেয়ায় এই লোকের সাথে খুব খারাপ আচরণ করেছে।
পরবর্তী সময়ে এই ঝগরা হয়েছে, এই সময় আমি বাড়িতে ছিলাম না । এখন আমি হুকুমদারী আসামী। বর্তমানে আমি বাড়ির বাহিরে রাত যাপন করছি।
চন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, জমির সীমানাটি উভয়পক্ষের সম্মতিতে ঠিক করা হলেও পরবর্তীতে ধীরেন্দ্র চন্দ্র দাস তা মেনে নেয় নি। আঃ রবের সাথে ধীরেন্দ্র খুব খারাপ আচরণ করেছে, এই বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে মারামারি হয়।
বারহাট্টা থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম বলেন, এমন একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামীরা পলাতক আছে, তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলমান আছে।
