নেত্রকোনা প্রতিনিধি
মেডিকেলে ভর্তি হয়ে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন ছিল এক মেধাবী শিক্ষার্থীর। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার অন্ধকারে। পরিবারের অভিযোগ, মানসিক চাপ সৃষ্টি, প্রলোভন এবং তথ্য গোপন করে তাকে বিয়েতে বাধ্য করা হয়েছে। বিয়ের পর যৌতুকের জন্য চাপ ও নির্যাতনেরও অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের শ্রীপুর বালী গ্রামে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শ্রীপুর বালী গ্রামের সঞ্জু মিয়া ও শামছুন নাহারের ছেলে ।পরিবারের অভিযোগ, একই গ্রামের প্রভাবশালী সুন্দর মিয়া ও আবু তাহেরের যোগসাজশে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে শিক্ষার্থীকে বিয়ের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় কাজী আ. আউয়ালের মাধ্যমে বিয়েটি সম্পন্ন হয়। এতে সুন্দর মিয়া ও আবু তাহের সাক্ষী ছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। বিয়ের আয়োজন ও আনুষাঙ্গিক খরচও তারা বহন করেন বলে অভিযোগ পরিবারের।
ভুক্তভোগী পরিবারের আরও অভিযোগ, বিয়ের সময় পরিচয় ও ঠিকানা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা হয়। এমনকি কনের পরিবারের অজ্ঞাতসারে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। কাবিননামায় দেনমোহরের পরিমাণ ১০ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয় বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
বিয়ের পর থেকেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর। পরিবারের দাবি, বিয়ের পর থেকে যৌতুক দেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয় মেয়েটিকে। একপর্যায়ে তাকে মারধর ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ঐ মেয়ের পরিবার।
ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের অভিযোগ, সুন্দর মিয়া ও আবু তাহেরের যোগসাজশে তাকে পারিবারিকভাবে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে শতাধিক মানুষের সঙ্গে কথা বলার দাবি করেছে পরিবার; তাদের ভাষ্য, ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, বিয়ের ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ। পরিবারের ভাষ্য, তিনি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু মানসিক চাপ ও বিয়ের ঘটনায় শেষ পর্যন্ত তার সেই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি মামলা চলমান রয়েছে। মামলার নম্বর ৫৪/৬/২৬ বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে মেয়ের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তার বাবা। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিজের মেয়ে ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরও দাবি, তার পড়াশোনা যেন বন্ধ হয়ে না যায়। মেডিকেলে পড়াশোনা করে চিকিৎসক হওয়ার যে স্বপ্ন নিয়ে তিনি এগিয়ে যাচ্ছিলেন, সেটি পুনরুদ্ধারে সহযোগিতা এবং তার ওপর নির্যাতন ও জোরপূর্বক বিয়ের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন তিনি।
স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ কোনোভাবেই সামাজিক চাপ, প্রলোভন, জবরদস্তি কিংবা নির্যাতনের কারনে থেমে যেতে দেওয়া যায় না। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে এলাকায়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
