সামদানি হোসেন বাপ্পী
ময়মনসিংহ
নেত্রকোণার মদনে আলোচিত মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আমানুল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরকে (৩০) গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৪।
মঙ্গলবার ৬ মে ভোর আনুমানিক ৪টা ১৫ মিনিটে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানার সোনামপুর এলাকা থেকে র্যাব-১৪ এর সদর কোম্পানির একটি চৌকস দল তাকে গ্রেফতার করে।
*মামলার বিবরণ*
গত ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে মদন থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১৭। ধারা: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী/২০২০) এর ৯(১) ও ৫০৬ পেনাল কোড।
এজাহারে বলা হয়, অভিযুক্ত আমানুল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর মদন উপজেলার হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক। ভুক্তভোগী শিশুটি একই এলাকার বাসিন্দা। শিশুটির বাবা দীর্ঘদিন ধরে নিরুদ্দেশ। মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। শিশুটি নানির কাছে থেকে ওই মাদ্রাসায় পড়ত।
গত ১৮ এপ্রিল মা শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখে মদন মডার্ণ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে শিশুটি ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা যায়।
জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি জানায়, গত ২ অক্টোবর ২০২৫ বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৩টায় মাদ্রাসা ছুটির পর শিক্ষকের আদেশে মাদ্রাসা সংলগ্ন মসজিদের বারান্দা ঝাড়ু দিচ্ছিল সে। তখন শিক্ষক তাকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
*গ্রেফতার অভিযান*
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। ঘটনাটি ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
র্যাব-১৪ মামলার ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ ভোরে গৌরীপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
