স্থানীয় প্রতিনিধি

মিতালী দে(৪৬), স্বামী-মৃত পল্লব ধর, সাং- নাগড়া সাহাপাড়া, থানা ও জেলা-নেত্রকোণা একজন বিধবা মহিলা। স্বামী মারা যাওয়ার পর দুই কন্যা সন্তান নিয়ে সংসার সামলানো ছিল তার বড় দায়িত্ব। কিন্তু আর্থিক সংকট ছিল বড় বাধা। আর এই সংকট থেকেই কাটিয়ে উঠার জন্য বেঁচে নেন কাপড়ের ব্যবসা । সামান্য পুঁজি নিয়ে বাসায় বসে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করলেও আস্তে আস্তে সংসারে সচ্ছলতা ফিরে আসে। এবারের পূজোতেও ছিল রমরমা ব্যবসা। তবে পূজোর জন্য ব্যবসা থেকে সামান্য বিরতি দিয়ে নিজেকে সাময়িকভাবে গুটিয়ে নেন। সেজন্যই মিতালী দে গত ২২/১০/২৩ ইং তারিখ দুপুর ১২:৩০ ঘটিকায় ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করতে দুই মেয়েকে নিয়ে বাসায় তালাবদ্ধ রেখে চলে যান বিভিন্ন মন্দিরে। আর বিকাল ৩:২০ ঘটিকার সময় বাসায় ফিরে যা দেখেন তা হয়তো দেখার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না। এই সামান্য সময়ে অজ্ঞাতনামা চোরেরা তাহার ঘরের তালা ভেঙ্গে নগদ- ২৫,০০,০০/- (আড়াই লক্ষ) টাকাসহ স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। অল্প সময়ের ব্যাবধানে নিঃস্ব হয়ে নেত্রকোণা মডেল থানার দারস্থ হন মিতালী দে। উক্ত বিষয়ে মিতালী দে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করিলে অফিসার ইনচার্জ নেত্রকোনা মডেল থানা মহোদয় জেলা পুলিশ সুপার জনাব মোঃ ফয়েজ আহমেদ স্যারকে অবহিত করিলে স্যারের নির্দেশে নেত্রকোনা মডেল থানার মামলা নং-৪০, তারিখ-২৬/১০/২৩ইং, ধারা- ৪৫৪/৩৮০ পেনাল কোড রুজু করেন। অত্র থানার অফিসার এসআই রফিকুল ইসলাম মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন।
মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর চোরাই মালামাল উদ্ধার, আসামী গ্রেফতার ও ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য এসআই রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম শহরের বিভিন্ন জায়গায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় নেত্রকোনা পৌরসভাধীন জয়নগর সাকিনস্থ সিভিল সার্জন অফিস সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা কালে চুরি করার প্রস্তুতি করাকালীন সময়ে চোর চক্রের দুই মহিলা সদস্য ১। নার্গিস আক্তার পাখি (২৩), স্বামী- মামুন মিয়া ও ২। তানজিলা আক্তার (২২), স্বামী- এমদাদুল হক, উভয় সাং- আমলী কেশবপুর, থানা ও জেলা- নেত্রকোনাদেরকে আটক করেন। থানায় নারী হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করিলে তারা জানায় যে, তারা বিভিন্ন বাসা বাড়িতে ভাঙ্গারী সংগ্রহ করে থাকে। তারা ভাঙ্গারী সংগ্রহের নাম করে তারা বাসা-বাড়ির বিভিন্ন খোঁজ খবর নেয়। কোন বাসা তালাবদ্ধ অবস্থায় পেলেই তারা খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে তালা ভেঙ্গে টাকা-পয়সা, স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে নিয়ে যায়। তারা একটি বাসায় তালা ভেঙ্গে চুরি করতে সর্বোচ্চ ২০/৩০ মিনিট নেয়। এছাড়াও তারা চুরি করার সময় আরও বিভিন্ন ধরনের অভিনব কায়দা ব্যবহার করে থাকে । সিডিএমএস পযালোচনায় আটককৃত দুইজন চোরের বিরুদ্ধে অত্র থানায় ০৪ (চার) টি চুরির মামলাসহ বিভিন্ন থানায় আরও একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা যায়। তারা পেশাদার চোর বলে স্থানীয় জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়। উক্ত মামলাটির মালামাল উদ্ধার ও আসামী গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *