গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত রিপোর্ট এখনো প্রকাশ হয়নি।
অভিযোগ তদন্তে সাক্ষ্য প্রমাণ মিললেও এখনো কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় জনমনে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নির্বাহী অফিসার যোগদানের পর থেকে পুকুর, হাট বাজার লীজের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। পুকুর লীজের ক্ষেত্রে ভূয়া মৎস্যজীবি সমিতি দেখিয়ে পুকুর লীজ দেয়ার অভিযোগ ও প্রমাণিত। শুধু তাই নয় গোবিন্দগঞ্জের হাট বাজার গুলো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে লীজ দেয়ায় সরকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অবৈধ বালু উত্তোলনের ঘটনায়ও ইউএনও জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের জায়গা দখলের উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা রাতের আধারে গ্রিল কেটে নিয়ে যায়। এসব ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ থাকলেও অদ্যবধি জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে শহীদ মিনারটি সংস্কার না করায় অদ্যবধি পতিত পড়ে রয়েছে। উল্লেখিত ঘটনায় মন্ত্রণালয় থেকে ২টি তদন্ত হলেও তদন্তের কোন রিপোর্ট প্রকাশ হয়নি।
জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা এ উপজেলায় গত ৫ আগস্টের পর যোগদান করেন। যোগদান করার পর থেকে নানা অনিয়ম দূর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে তিনি। এসব ঘটনায় জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়। কিন্তু তার বিরুদ্ধে অদ্যবধি কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। ফলে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এসব ঘটনায় মন্ত্রিপরিষদের পক্ষে তদন্ত করেন গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আল মামুন ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক যাদব সরকার (সার্বিক)। তবে যোগাযোগ করা হলে দুজনই বদলি হওয়ায় এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, তিনি সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে দলের লোকজনকে কিছু সুবিধা দিয়েছেন একই সঙ্গে তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এসব ঘটনা তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নাগরিক কমিটির আহবায়ক এম এ মতিন মোল্লা বলেন, সরকারি অর্থ অপচয়, ক্ষমতার অপব্যবহার সহ নানা ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত থাকলেও তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এ উপজেলায় যোগদানের পর থেকে হাট বাজার, ভুয়া মৎসজীবি সমিতির নামে পুকুর ইজারাসহ বালু-মাটি সিন্ডিকেটের সঙ্গে তিনি সরাসরি জড়িত। তাকে এসব ঘটনায় আইনের আওতায় আনার জন্য জোর দাবী জানািচ্ছ।
অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, আপনাদের কাজ রিপোর্ট করা সেটা করেন। আর এসব ঘটনায় অভিযোগ হয়েছে এবং তদন্তও হয়েছে। উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা যদি মনে করেন আমি অনিয়ম দুর্ণীতি করেছি তাহলে তারাই ব্যবস্থা নিবে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ড. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, তিনি অল্পকিছু দিন হলো জেলায় যোগদান করেছেন। বিষয়টি তার জানা নেই। তবে অভিযোগের বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *