মোঃ মিঠু মিয়া
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধায় নিখোঁজের পাঁচ দিন পর চার বছরের শিশু বায়োজিদের খন্ডিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা সন্দেহভাজন হত্যাকারীর বাড়ি ঘরে আগুন দিয়েছে। পরে পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশের ২ ঘন্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।

জানা যায়, গত ৮ মে (সোমবার) দুপুরে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের ঘোড়াবান্ধা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় ওই গ্রামের প্রবাসী তাহারুল বেপারীর ছেলে বায়োজিদ ( ৪)। নিখোঁজের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোজে নামে।শনিবার ( ১৩ মে) বিকেল ৫টার সময় বাড়ির পাশে ধানক্ষেতে বায়োজিদের খন্ডিত গলিত মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে বায়োজিদের খন্ডিত লাশ উদ্ধার করে।

লাশ উদ্ধারের সাথে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন বায়োজিদের স্বজনেরা। ওটা গ্রাম জুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে ওই গ্রামের সকল মানুষ। হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে পাশের বাড়ির সিরিকুল ইসলাম এর তিনটি বসত বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে তারা।
খবর পেয়ে পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে দুই ঘন্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নেভাতে কাজ করে ফায়ার সার্ভিসের দুই ইউনিট।

বায়োজিদের মা রাহেনা বেগম , বোন তিশা আক্তার ও স্বজনরা জানান, পার্শ্ববর্তী বাড়ির সিরিকুল ইসলামের ছেলে রোমান মিয়া দীর্ঘদিন থেকে তার মেয়ে তিশাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বিরক্ত করে আসছিল। বিষয়টি মেনে না নেওয়ায় মাঝে মধ্যেই হুমকি দিতো সে। তার পরিবারের সদস্যরাই তার ছেলেকে হত্যা করেছে। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তারা।

গাইবান্ধা পুলিশ সুপার মোঃ কামাল হোসেন জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা মোকাবেলায় ঐ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। হত্যার সাথে যেই জড়িত থাক কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।

ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে পার্শ্ববর্তী বাড়ির মো: সিরিকুল ইসলামের ছেলে রোমান মিয়া (১৭) তার মা ববিতা বেগম (৪০) ও বন্ধু শরিফুল ইসলাম (১৭) কে আটক করেছে পুলিশ।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *