মোঃ ইমরুল আহসান
ভিকটিম ও মামলার বাদী মোফাজ্জেল গাজী পিতা-জালাল গাজী গ্রাম-হাড়িখালি বটতলা বাগেরহাট সদর, বাগেরহাটে এর অভিযোগের ভিত্তিতে পিবিআই বাগেরহাট জেলার একটি চৌকষ টিম বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে গাজীপুর জেলার টঙ্গী থানাধীন জামাই বাজার এলাকা থেকে সাদ্দাম(৩৩), পিতা- মোঃ সেলিম ফরাজী, সাং-হরিনখানা, থানা- বাগেরহাট সদর, জেলা- বাগেরহাটকে ও তার দেওয়া তথ্য মতে চোরাইমাল গ্রহণকারী মোঃ উজ্জল(২৪), পিতা- মৃত আজাহার আলী, সাং- দিঘীরচালা, থানা- সখিপুর, জেলা-টাঙ্গাইলকে কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে ও সাদ্দামের দেওয়া তথ্যমতে চোরাইমাল গ্রহণকারী অপর সদস্য হানিফ(৩০), পিতা- মোঃ আশরাফ মোল্লা, সাং- গাজনা, থানা- মধুখালী, জেলা- ফরিদপুরকে নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানা হতে গ্রেফতার ও প্রতারনা মূলক চুরি করে নিয়ে যাওয়া ১ টি ইজিবাইক উদ্ধার করেছে।

ঘটনার বিবরন ও গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় মামলার বাদী ইজি বাইক মালিক মোফাজ্জেল এর ইজিবাইকটি আসামী সাদ্দাম ১০/১৫ দিন ধরে ভাড়ায় চালাত। প্রতিদিনের ন্যায় গত ইং ১৩ ডিসেম্বর সকালে তার ইজিবাইক নিয়ে আসামী সাদ্দাম ভাড়ার উদ্দেশ্যে বের হয়ে আর ফিরে আসে নাই। পরবর্তীতে ইজি বাইক মালিক মোফোজ্জেল এর নিকট আসামী সাদ্দাম ২০,০০০/- টাকা দাবী করে। আসামী সাদ্দাম বলে ২০,০০০/- টাকা প্রদান করলে মোফাজ্জেল এর ব্যাটারী চালিত ইজি বাইকটি ফেরত দিবে। বাদী তার কথা মত টাকা না দেওয়ায় সাদ্দাম ইজি বাইকটি চুরি করে নিয়ে গোপালগঞ্জ জেলার মোকছেদপুর থানা এলাকায় একটি গ্যারেজে রাখে এবং মোবাইলে ইজি বাইকের ছবি আসামী উজ্জলকে পাঠায়। আসামী উজ্জল ছবি দেখে পছন্দ হওয়ায় উজ্জল ও হানিফ ইজি বাইক ক্রয় করার জন্য গোপালগঞ্জ জেলার মোকছেদপুর থানা এলাকায় আসে। আসামী সাদ্দাম ১,২৫,০০০ টাকায় উজ্জল ও হানিফ এর নিকট বিক্রয় করে। উজ্জল ও হানিফ একটি মিনি ট্রাক যোগে ইজিবাইকটি নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানা এলাকায় নিয়ে যায়।

ইজিবাইক মালিক বাদী মোফাজ্জেল তার ইজিবাইক চুরির বিষয়ে বাগেরহাট সদর থানায় গেলে ডিউটি অফিসার ঘটনার বর্ণনা শুনে একটি অভিযোগ দিতে বলেন। ইজিবাইক মালিক বাদী মোফাজ্জেল বাগেরহাট সদর থানায় একটি অভিযোগ দিয়ে আসেন এবং একই অভিযোগ নিয়ে পিবিআই বাগেরহাট অফিসে এলে পুলিশ সুপার পিবিআই বাগেরহাট মোঃ আবদুর রহমান মহোদয় বিষয়টি সাধারন ডাইরী ভুক্ত করে ছায়া তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন এবং উক্ত বিষয়ে এসআই ইয়াছিন আরাফাতকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি টিম গঠন করে দেন। উক্ত টিম ঘটনাটির শ্যাডো ইনভেস্টিগেশন করে পুরো চোরচক্রকে সনাক্ত করলে ইজিবাইক মালিক মোফাজ্জেলকে বাগেরহাট সদর থানায় গিয়ে একটি নিয়মিত মামলা করতে বলে। তিনি মামলা রুজু করার পর (মামলা নং ১৬, তারিখ ২৪/০১/২০২৪) মামলাটি পিবিআই বাগেরহাট তদন্ত করার জন্য পিবিআই হেডকোয়ার্টার্স এর অনুমতি চেয়ে পত্র প্রেরণ করলে পিবিআই হেডকোয়ার্টার্স অনুমতি প্রদান করে। পরে উক্ত টিম ইজিবাইক চোর সদস্য সাদ্দাম (৩৩) কে গ্রেফতার করে ও তার দেওয়া তথ্য মতে চোরাইমাল গ্রহণকারী সাদ্দামকে কমলাপুর রেল স্টেশন হতে, চোরাইমাল গ্রহণকারী অপর সদস্যকে নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানা এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়। উল্লেখ্য যে এই হানিফ এর হেফাজত থেকেই অত্র মামলার ইজিবাইকটি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদানের জন্য বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হবে। তদন্ত অব্যহত আছে এবং তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রদান করা হবে।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *